জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে ভারত
কৌশলগত বহুপক্ষীয় সংগঠন জি-২০। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলো এর সদস্য। এ সংগঠনের আগামী শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলনসহ বৈঠকগুলোতে অতিথি দেশ হিসেবে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। সংগঠনের আগামী সভাপতি হিসেবে এ ঘোষণা দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জি-২০ এর বর্তমান সভাপতি ইন্দোনেশিয়া। আর আগামী ২০২২ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ এর নভেম্বর পর্যন্ত এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বে কমপক্ষে ২০০ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ এর সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথা অনুযায়ী এ সংগঠনের সভাপতি বেশ কিছু দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বিভিন্ন বৈঠক ও শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে। বাংলাদেশ, মিশর, মরিশাস, নেদারল্যান্ডস,নাইজেরিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর, স্পেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সভাপতি হিসেবে ভারত অতিথি দেশ হিসেবে আমন্ত্রণ জানাবে। এছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), সিডিআরআই এবং আইএসএকের মত সংগঠনকেও অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৈঠকগুলোতে আন্তর্জাতিক সংগঠনের মধ্যে জাতিসংঘ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, ডাব্লুএইচও, ডাব্লুটিও, আইএলও, এফএসবি ও ওইসিডি এবং আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে এইউ, এইউডিএ-এনইপিএডি এবং আশিয়ানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং একত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশগুলো জি-২০ এর সদস্য। পুরো বিশ্বের ৮৫ শতাংশ জিডিপি এ দেশগুলো ঘিরে। আর বিশ্বের বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশ এ দেশগুলোর মধ্যে হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে পুরো বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এ দেশগুলোতে বাস করে।
দুর্গাপুজা উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীদের ৫ দিনের অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা
আগরতলা পুর নিগম এলাকার দুর্গাপূজা উদ্যোক্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা দুর্গাপূজা হচ্ছে সদভাবনার উৎসব : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা পুরনিগম এলাকার দুর্গাপূজা উদ্যোক্তাদের নিয়ে আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগরতলা পুরনিগমের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তা, বাজার ও পূজা কমিটির প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা হচ্ছে সদভাবনার উৎসব। একে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংহতির সৃষ্টি হয়। অহেতুক চাঁদার নামে এই উৎসবকে কালিমালিপ্ত করা উচিত নয়। যদি কোন ক্লাব বা পূজা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদা সংক্রান্ত অভিযোগ আসে তাহলে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়তে প্রথম থেকেই সচেষ্ট রয়েছে। কিন্তু বড় বড় বাজেটের পূজাগুলির ক্ষেত্রে দেখা যায় মূর্তি, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ইত্যাদির জন্য রাজ্যের বাইরের শিল্পীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে রাজ্যের শিল্পী ও শ্রমিকরা কাজ করতে পারলে রাজ্যের অর্থ রাজ্যেই থেকে যাবে। এই বিষয়ে পূজা উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানান। সভায় মুখ্যমন্ত্রী মতবিনিময় সভায় যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তা নিয়ে নিজ নিজ ক্লাবে আলোচনা করার জন্যও উপস্থিত পূজা উদ্যোক্তাদের বলেন। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়গুলিতে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উশৃঙ্খলতা চরমে ছিল। বর্তমান সরকারের সময় সুষ্ঠুভাবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ফলে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এবারের পূজায় নেশাজাতীয় সামগ্রী সম্পূর্ণরূপে বর্জন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান। পূজার সময় অনুমোদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, ক্লাবগুলির মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার জন্য সকল ক্লাবগুলিকে একসাথে কাজ করতে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানান। সভায় আলোচনায় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী উপস্থিত সকল ক্লাব কর্তৃপক্ষদের নিকট সরকারিভাবে প্রথমবারের মত বিজয়া দশমী উপলক্ষে আয়োজিত মায়ের গমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৭ অক্টোবর এই অনুষ্ঠান করা হবে। এই উপলক্ষে পোষ্ট অফিস চৌমুহনী থেকে প্যারাডাইস চৌমুহনী, মেলারমাঠ হয়ে দশমীঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমাগুলিকে নিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি করে দশমী করা হবে। সভায় আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরনিগম কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ক্লাব কর্তৃপক্ষের পূজা করার অনুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোন ধরণের অসুবিধা না হয় এজন্য জোনাল অফিসগুলিতে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ বছর দর্শনার্থীদের নিকট নতুন আগরতলা শহর তুলে ধরার জন্য কাজ করছে পুরনিগম। শহরের সৌন্দর্যায়ণে প্রায় ৫ কোটি টাকা আলাদা প্যাকেজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পূজা উপলক্ষে শহরের ৬টি গুরুত্বপূর্ন রাস্তাকে ত্রিরঙ্গা আলোকসজ্জায় সাজানো, রাস্তা মেরামত, দশমীঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের স্থানের আয়তন বাড়ানো ও স্থায়ী ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও দশমীঘাটে বিসর্জনের জন্য থাকবে ট্রলি, ক্রেন ইত্যাদি। মধ্যরাত্রির মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন কর্মসূচি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। সভায় ডিআইজি জি কে রাও জানান, এবছর এখন পর্যন্ত পশ্চিম ত্রিপুরায় ৯০৪টি পূজা করার আবেদনপত্র জমা পড়েছে। সারা রাজ্যে এই সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ছাড়াও প্রায় দেড়হাজার টি এস আর, স্কাউটস এন্ড গাইডস, এনসিসি-র সদস্যরা থাকবেন। সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত্রি ১২টা পর্যন্ত থাকবে নো এন্ট্রি। এজন্য আগরতলা শহরে ঢোকার থাকবে ১০টি ড্রপ গেইট। সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, পুলিশ মহানির্দেশক অমি রঞ্জন, বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব ব্রীজেশ পান্ডে, মিউনিসিপ্যাল কমিশনার তথা পশ্চিম ত্রিপুর জেলার জেলাশাসক দেবপ্রিয় বর্ধন, ক্লাব ফোরামের সভাপতি প্রণব সরকার।
|
