খুব শীঘ্রই সারাদেশের বিভিন্ন শহরে চালু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প পিএম ই-বাস সেবা। দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে
সারাদেশের বিভিন্ন শহরে শহরে নামানো হবে ১০ হাজার ই-বাস। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য পরিববহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দূষণ হ্রাস করা। এবার এই লক্ষ্যে ‘পিএম ই বাস পরিষেবা’ চালু করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দেশের ১৬৯টি শহরে ১০ হাজার বৈদ্যুতিক বাস চালানো হবে। এর পাশাপাশি অন্যদিকে, দেশের ১৮১টি শহরে পরিকাঠামোর উন্নতি করা হবে। এই গোটা প্রকল্পে খরচ হবে ৫৭ হাজার ৬১৩ কোটি। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। বাকি খরচ রাজ্যের। পিএম ই-বাস সেবা প্রকল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য হল ক্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল গ্রহণ করা। তাই পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে চালানো হবে এই ই-বাস। এই সহযোগিতামূলক পদ্ধতির লক্ষ্য হল দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। সারাদেশের অন্যান্য শহরের মতো আগরতলা শহরেও চলবে ই-বাস। আগরতলার পাশাপাশি অন্যান্য শহরেও ই-বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই ই-বাস পরিষেবাকে সার্থকভাবে রূপায়িত করার জন্য দরকার এর সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়ে আগাম প্রস্তুতির। ই-বাস চালুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাস ডিপোর পরিকাঠামোর উন্নতি করা খুবই প্রয়োজন, যাতে ই-বাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যার মুখোমুখি না হতে হয়। ই-বাস পরিষেবা চালু করার সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আজ সচিবালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পৌরহিত্য করেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। ই-বাস চালু করার জন্য বিভিন্ন বাস ডিপোতে মাল্টিমডেল ইন্টারচার্জ পরিষেবার খুবই প্রয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন পরিবহণ মন্ত্রী। তাছাড়া কোন কোন এলাকায় বাসের প্রয়োজনীয়তা বেশি রয়েছে, কোথায় পরিকাঠামোগত সুবিধা বেশি, কোথায় ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়গুলি নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলিতে এই ই-বাস পরিবহণ পরিষেবা চালু হলে শহরের বাসিন্দারা আরও উন্নত পরিষেবা পাবেন। সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার আরও উন্নতি হবে। এই ই-বাস সার্ভিস শুরু হলে শব্দদূষণ এবং বায়ু দূষণ কমবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর ফলাফল সুদূরপ্রসারী হবে। যদি বায়ুদূষণ কমানো যায় সেক্ষেত্রে পরিবেশের জন্য তা অত্যন্ত ভালো লক্ষণ হবে। এর পাশাপাশি আমাদের রাজ্যের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বিশেষ উন্নতি হবে। তিনি আরো বলেন, এই ই-বাস পরিষেবা চালু হলে এই প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন অনেকেই। ফলে একদিকে যেমন পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি হবে তেমনই কাজও পাবেন বহু মানুষ। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগটি পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কথা ভেবেই নিয়েছেন। আমাদের রাজ্যে, বৈদ্যুতিন পরিবহণ ব্যবস্থার প্রসারে এই প্রকল্পটি বিশেষভাবে সহায়ক হবে। তাছাড়া, এটি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশ বান্ধব একটি পরিবহণ ব্যবস্থা রূপে আমাদের রাজ্যের শহরগুলির পরিবেশকে আরও উন্নত করে তুলবে।
বৈঠকে পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আশা ব্যক্ত করে বলেন, আদরণীয় প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়ে আমাদের রাজ্যেও দারুণভাবে সফল হবে। তিনি এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল আধিকারিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। আজকের এই বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ত্রিপুরা সরকারের অর্থ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, পরিবহণ দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা রজত পন্থ, পরিবহণ দপ্তরের কমিশনার সুব্রত চৌধুরী, ত্রিপুরা সড়ক পরিবহণ নিগম ও ত্রিপুরা আরবান ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ধনবাবুর রিয়াং, আগরতলা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ডেপুটি মিউনিসিপাল কমিশনার সুব্রত ভট্টাচার্য, পরিবহণ দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি মৈত্রী দেবনাথ, কনভারজেন্স এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড (সিইএসএল) এর আধিকারিক অজিত প্রতাপ সিং সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।।
