গত ২৬শে জানুয়ারি, শুক্রবার, প্রজাতন্ত্র দিবসের রাতে, তেলিয়ামুড়া শহরের উপকণ্ঠে, কলইপাড়ার পাশ্ববর্তী উত্তর ব্রহ্মছড়া গ্রামে উগ্রবাদীরা বাঙালীদের চৌদ্দটি বাড়ীঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। আক্রমণকারীরা যে তীব্র বাঙালী বিদ্বেষী ও এলাকাতে বাঙালীদের থাকতে দেবেনা তার প্রমাণ হল- গ্রামের উপর দিয়ে যাওয়া রাস্তার উপর তাদেরই লেখা ‘গো ব্যাক্ ওয়ান্সা’ ও ‘রেডজোন’ শ্লোগানটি। উল্লেখ্য সেদিন যে সকল বাঙালীদের বাড়ীঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে দুই হাজার সালেও উগ্রবাদীরা তাদের ধনমান-জীবন সম্পত্তির উপর নৃসংশ আক্রমন সংঘটিত করেছিল। পরিনামে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাঙালীরা নিরাপত্তার অভাবে বাঁচার আশায় তেলিয়ামুড়া শহরের আশে-পাশে গাছতলায় কুঁড়েঘর বানিয়ে মুটে মজুরী করে কোনভাবে জীবন যাপন করে চলেছে। কারণ, অতীতে সেখানে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও অনেকদিন হল তা তুলে দেওয়া হয়েছে। জমিতে ফসল করলে রাতের আঁধার তো বটেই দিনের বেলাতেই সংশ্লিষ্ট বাঙালী বিদ্বেষীরা তা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, বাম সরকারের আমলে যেমন বাঙালী বিদ্বেষী উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে ভোটের স্বার্থে তোষণ নীতি চালানো হয়েছিল ত্রিপুরার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তথা সরকারও ক্ষমতার লক্ষ্যে একই নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখিত পরিস্থিতিতে আমরা বাঙালী ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি মনে করে গত ২৬শে জানুয়ারীর তেলিয়ামুড়ার উত্তর ব্রহ্মছড়ার ঘটনা, কিছুদিন আগে উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত উদয়পুরের অদূরবর্তী ‘রাইয়াবাড়ীর’ ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা এবং সেটি হল, প্রথম পর্যায়ে এডিসির এলাকা থেকে ‘বাঙালী বিতাড়ন’ ও শেষে গোটা ত্রিপুরাকেই ‘বাঙালী শূন্য’ করা। এ প্রসঙ্গে ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যানড’ ও ‘গোব্যাক বাংলাদেশী’ শ্লোগানের উদ্গাতা তথা তিপ্রামথা দলের স্রষ্টা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণজীর মতো বাঙালী বিদ্বেষী নেতাদের উস্কানী যে উল্লেখিত ঘটনগুলির পেছনে মদত যুগিয়ে চলছে তা- দিবালোকের মতো পরিস্কার। উক্তাবস্থার প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন তথা সরকারের কাছে আমরা বাঙালীর আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি জানায়,
১। তেলিয়ামুড়ার উত্তর ব্রহ্মাছড়া এলাকায় অবিলম্বে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসাতে হবে ও প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসরত বাঙালীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
২। অবিলম্বে উত্তর ব্রহ্মছডায় বাঙালীদের বাড়ীঘর যারা ভাঙ্গচুর কবেছে তাদের তদন্তক্রমে চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে ও ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। এডিসি এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেরত বাঙালী ব্যবসায়ীদের উপর আইন বর্হিভূত কর বা ট্যাক্স চাপানো বন্ধ করতে হবে।
৪। ত্রিপুরা তথা ভারতের বুকে বাঙালীদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
