🧧🚨বই মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু ।। নীতা সরকার ।।

বই মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু। একটি বই হতে পারে নিঃসঙ্গ মানুষের শ্রেষ্ঠ জীবন সাথী। বই নিয়ে মেলা এক প্রাণের মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব। নানা ভাষা ও নানা মতের এক মিলন মেলা। দুটি যৌগিক শব্দ দিয়ে বইমেলা কথাটির সৃষ্টি হলেও এর পরিধি বিরাট। এটি একটি বৃহৎ সম্মিলন সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে। মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতেও বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা শিশুরা একমাত্র বইমেলাতে এসেই বই কেনার আগে বইটিকে একটু নাড়াচাড়া করে দেখার সুযোগ পায়। শুধু তাই নয় একজন প্রকৃত পাঠক তার প্রিয় বইটি বাইন্ডিং, কভার, ডিজাইন, পৃষ্ঠাগুলি উল্টেপাল্টে তার গুণমান যাচাই করা এবং এর স্বাদ গন্ধ অনুভব করার সুযোগও একমাত্র বইমেলাতেই পেয়ে থাকেন।
বর্তমানে ডিজিটাল বিশ্বের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বইপড়া ও বইমেলা দুটোই এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে আছে। প্রিয়জনের দেওয়া উপহারের বইটি রাত জেগে পড়ার আগ্রহ ও নেশা দুটোই প্রায় এখন হারিয়ে গেছে। সুতরাং বইমেলার মধ্য দিয়েই আজ আমাদের এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নতুন প্রজন্মকে পাঠের প্রতি আগ্রহী করে তোলার প্রয়োজনের তাগিদেই আমাদের বইমেলার অঙ্গনে সকলকে সমবেত করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে বইমেলার রঙ রূপ চরিত্র আমাদের মানবজাতির এক চেতনার উৎস। সেখানে যারা সমবেত হন তারা শুধুমাত্র বই বেচাকেনা করতেই আসেন না। তারা একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এক সৃজনশীল প্রতিভা খুঁজতে আসেন। বইমেলা হলো সৃজনশীল প্রতিভা খোঁজার এক শ্রেষ্ঠ অঙ্গন। যেখানে নবীন প্রবীণ লেখক লেখিকা, সাহিত্যিক, প্রকাশক, গবেষক ও পাঠক এক মোহনায় মিলিত হন। বইমেলা লেখকদের পাঠকদের কাছাকাছি এনে দেয়। তাদের মধ্যেও মতবিনিময় হয়।
বইমেলার মতো জ্ঞানের উৎসবে সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি লেখকদের নতুন নতুন বই প্রকাশিত হয়। নতুন বইয়ের মলাট উন্মোচিত হয়। কালি কলম ও কাগজের আত্মা মিলেমিশে একাকার হয়। নানা ভাষা, নানা মত সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে বইমেলা বইপ্রেমীদের কাছে এক তীর্থস্থান হয়ে উঠে। ৪২তম আগরতলা বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। এবছরের বইমেলার মূল ভাবনা হচ্ছে ‘ভব্য ভারত’। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এই বইমেলার মূল আয়োজক। এবারের বইমেলা ১৪ দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৫ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে মেলা শুরু হবে। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। অবশ্য ছুটির দিনগুলি রাত ৯টা ৩০মিনিট পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলার প্রতিদিনই নির্দিষ্ট একটি সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে জাতি জনজাতির শিল্পীদের দ্বারা পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীগণও অংশগ্রহণ করবেন। বইমেলার ৭দিন সন্ধ্যা ৫টা ৩০মিনিট থেকে ৬টা ৩০মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যের কবিদের জন্য কবি সম্মেলন। এছাড়াও বইমেলায় থাকছে সেমিনার, ক্যুইজ ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। এবছর বেস্ট লিটল ম্যাগাজিন অ্যাওয়ার্ড নামে একটি নতুন পুরস্কারও চালু করা হয়েছে। সবশেষে বইমেলায় যাতায়াতের জন্য বিভিন্ন রাস্তায় বিনামূল্যে বাস পরিষেবার ব্যবস্থাও থাকবে। আমরা আশাবাদী সবার অংশগ্রহণে বইমেলা হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *