সোমবার রাখাল মেমোরিয়াল নক আউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়ামে। খেলার শুরুতে অল ইন্ডিয়া ফুটবল এসোসিয়েশনের সচিব অনির্বাণ দত্ত, ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রণব সরকার সচিব অমিত চৌধুরী সহ অন্যান্যরা খেলোয়ারদের সঙ্গে পরিচিত হন। ফাইনাল খেলায় প্রতিদ্বন্দিতা করে মেলার মাঠের এগিয়ে চলো সংঘ সংঘ ও রামনগর এর রামকৃষ্ণ ক্লাব। সেমিফাইনালে এগিয়ে চলো সংঘ লাল বাহাদুরকে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র সংগ্রহ করে পাশাপাশি রামকৃষ্ণ ক্লাব ত্রিপুরা পুলিশকে পরাজিত করে ফাইনালে পদার্পণ করে। এ দিনের খেলার প্রথমার্ধে ২৩ মিনিটে এগিয়ে চলোর সংঘের ১৮ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়ার সত্যম শর্মা গোল করে ১-০ গোলে এগিয়ে দেয় এগিয়ে চলো সংঘকে। দু মিনিটের ভেতরেই রামকৃষ্ণ ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সিধারী দেবাশীষ রায়ের গোলে
খেলায় সমতা ফিরে আসে। অর্থাৎ খেলার ফলাফল দাঁড়ায় ১-১। খেলা যখন প্রথমার্ধের 30 মিনিট এ গড়ায় তখন আবার এগিয়ে চলো সংঘের পক্ষে ১১ নম্বর জার্সিধারী প্লেয়ার শ্যাম কুমার গোল করে ২-১ গোলে এগিয়ে দেয় এগিয়ে চলো সংঘকে। খেলার প্রথমার্ধের শেষে অতিরিক্ত সময় এগিয়ে চলো সংঘের ৯ নম্বর খেলোয়াড় সুরজ রসাইলি গোল করে এগিয়ে চলোকে ৩-১ গোলে এগিয়ে দেয়। অর্থাৎ প্রথমার্ধের শেষে খেলার ফলাফল দাঁড়ায় এগিয়ে চলো সংঘ ৩ রামকৃষ্ণ ১। খেলার দ্বিতীয়ার্ধের ১৪ মিনিটে দুই দলের দুই খেলোয়ার হাতাহাতিতে লিপ্ত হলে দুজনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে রেফারি রক্তিম সাহা। এগিয়ে চলো সংঘের হয়ে গোল করা সুরজ রসাইলি ও রামকৃষ্ণ ক্লাবের অলিন সিং লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে দুদলের দশজন করে খেলোয়াড় নিয়ে খেলা এগিয়ে চলে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলার ২৯ মিনিটে রামকৃষ্ণ ক্লাবের ৬ নম্বর জার্সিধারী প্রহর জমাতিয়া গোল করে খেলার ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করে। পরবর্তীতে একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি রামকৃষ্ণ ক্লাব। ফলে ৩-২ গোলে পরাজিত হয় তারা। গত বছরও রামকৃষ্ণ ক্লাবকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা দখল করেছিল এগিয়ে চলো সংঘ। এবছর ও তারা শিরোপা দখল করল। আগরতলা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাব খেলা শেষে অতিথিদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেয়। ফাইনাল খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয় এগিয়ে চলো সংঘের সত্যম শর্মা। উনার হাতে ৩০০০ টাকা এবং ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হয় পুলিশ এসির প্রীতম হোসেন। উনার হাতে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। টুর্নামেন্টে তিনজন সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তিনটি করে গোল করায় তিন জনের ভেতর তিন হাজার টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়।তারা হলেন সুরোজ রাইসিলি, রোহিত সিং ও এন মেথি। ক্রিয়া সাংবাদিকদের বিচারে ফেয়ার প্লে ট্রফির জন্য নির্বাচিত হয় লাল বাহাদুর ব্যায়ামাগার। তাদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। রামকৃষ্ণ ক্লাবের খেলোয়াড়দের হাতে রানার্স আপ ট্রফি এবং চল্লিশ হাজার টাকার চেক তুলে দেয় ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পেট্রোল রতন সাহা।
চ্যাম্পিয়ন দল এগিয়ে চলো সংঘের খেলোয়ারদের হাতে সুদৃশ্য ট্রফি এবং ৬০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয় অল ইন্ডিয়া ফুটবল এসোসিয়েশনের সচিব অনির্বাণ দত্ত ও ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রণব সরকার। আজকের খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার। কিন্তু উনি অপর একটি প্রোগ্রামে ব্যস্ত থাকায় আজকে মাঠে উপস্থিত হতে পারেনি।
আজকের খেলায় জয়ী হয়ে প্রাইস মানির ৬০ হাজার টাকার পুরো টাকাটাই এগিয়ে চলো সংঘ বন্যা ত্রাণে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে পরবর্তীতে তুলে দেবেন। অপরদিকে রানার্স দল রামকৃষ্ণ ক্লাব বন্যার ত্রাণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে ১০ হাজার টাকাও তুলে দেবেন। অপরদিকে আজকের ফাইনাল ম্যাচের টিকিট বিক্রির পুরো টাকাটাই ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে তুলে দেবেন। আগরতলার একটি হোটেলের মালিক সৈকত ব্যানার্জি ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কে দু লক্ষ টাকার চেক তুলে দেয়।
