২৯ বছরে পা দিল বাংলা ব্যান্ড দাবানল

 

ব্যান্ড সঙ্গীত শব্দটা শুনলেই প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাশ্চাত্য ভাবধারার গানের দলের কথা। রক, পপ, জ্যাজ, ব্লুজ, রক এন্ড রোল, মেটাল ইত্যাদি বিভিন্ন ধারার হতে পারে ব্যান্ড সঙ্গীত। এরকম বিশেষ ধারার গানের দলের দলগত সংগীত পরিবেশনাকে মোটকথা ব্যান্ড সংগীত বলা হয়। এই সংগীত বর্তমানে সারা বিশ্বেই তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের প্রতীক, উদ্দীপনার কেন্দ্রস্থল। এক সময় অপসংস্কৃতি হিসেবে খ্যাতি পাওয়া এই ব্যান্ড সংগীতই বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ৯০ এর দশক থেকে জনপ্রিয়তা পেতে চলেছে ব্যান্ড সংগীত। পশ্চিমবঙ্গের
মহীনের ঘোড়াগুলি, ভূমি, চন্দ্রবিন্দু, ফসিলস, চন্দ্রবিন্দু , দোহার ইত্যাদি ব্যান্ডগুলি পশ্চিমবঙ্গের সীমানা পেরিয়ে বহি বিশ্বে নিজেদের একটি স্থান করে নিতে পেরেছে। দোহার তো ত্রিপুরা রাজ্যে কিছুদিন পর পরই সঙ্গীত পরিবেশন করার জন্য আসে এবং দর্শকদের বিশেষ সমীহ আদায় করে। রাজ্যেও ব্যান্ড কালচার এখন অনেকটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। রাজ্যের প্রথম ব্যান্ড দাবানল যার পথচলা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ২৯ বছর আগে। ২৯ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে তারা বিভিন্ন স্বাদের সংগীত পরিবেশন করে শ্রোতাদের মনোমুগ্ধ করে রেখে চলেছে। সেই ১৯৯৫ সালে মিস ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে যাদের পথচলা শুরু হয়েছিল। এখনো তারা রাজ্যে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ২৯ বছরে তারা সুনামের সঙ্গে বহি রাজ্যে গিয়েও অনুষ্ঠান করে এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০০ এর উপর লাইভ শো উপস্থাপন করেছে তারা।
বাংলা ব্যান্ডের গান, ইংরেজী রক্, বাংলা লোকগান, হিন্দী পপ রক গান করে থাকে তারা।
এলাহাবাদের বিখ্যাত রক ম্যাগাজিন রক স্ট্রীট জার্নাল, শিলংয়ের গ্রেট ইন্ডিয়ান রক সিভিতে নিজস্ব গান বেরিয়েছে তাদের। ইতিমধ্যেই তাদের একটি অ্যালবাম বিশেষ সাড়া ফেলেছে রাজ্যে তথা সারা ভারতবর্ষে।
নিশাচর শিরোনামে মৌলিক গানের অ্যালবাম রাজ্যের যুবক যুবতীদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
নয়া দিল্লী, কোহিমা, ভুবনেশ্বর ও আরো অনেক শহরে মনমাতানো শো করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছে তারা।
সঙ্গীত নাটক একাডেমী, ভারত সরকারের অধীনেও প্রোগ্রাম করেছে তারা। পাশাপাশি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিভিন্ন মেলাতে অংশগ্রহণ করে থাকে তারা। অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্যেও ব্যান্ড সংগীত জনপ্রিয়তা অর্জন করুক এই লক্ষ্যে তারা তাদের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে এখন দেখার সাধারণ শ্রোতারা তাদের গান কতটুকু গ্রহণ করে এবং তারা কতটুকু এগিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *