বাজেট পেশ করে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা চাইলেন মেয়র

 

বুধবার পুর নিগমের কনফারেন্স হলে ২০২৫ ২৬ সালের ৭২.০২ লক্ষ টাকা ঘটতি বাজেট পেশ করেন মেয়র দীপক মজুমদার। বাজেটে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সর্বমোট রাজস্ব এবং মূলধনী আয় ধরা হয়েছে ৪৭৫.৮৩ কোটি (চারশ পচাত্তর কোটি তিরাশি লক্ষ) টাকা এবং অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬.৫৫ কোটি (চারশ ছিয়াত্তর কোটি পঞ্চান্ন লক্ষ) টাকা। ঘাটতি ধরা হয়েছে ৭২.০২ লক্ষ (বাহাত্তর লক্ষ দুই হাজার) টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য সর্বমোট রাজস্ব ও মূলধনী আয় ধরা হয়েছিল ৪১৫.৯৭ কোটি (চারশ পনের কোটি সাতানব্বই লক্ষ) টাকা এবং উক্ত বছরের অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১৬৭৪ কোটি (চারশ ষোল কোটি চুয়াত্তর লক্ষ) টাকা। ঘাটতি ছিল ৭৬.৭৫ লক্ষ (ছিয়াত্তর লক্ষ পচাত্তর হাজার) টাকা।
গত বৎসরের তুলনায় আগামী অর্থ বছরে প্রস্তাবিত আয় ৫৯৮৬ কোটি ৫৯ কোটি ছিয়াশি লক্ষ) টাকা এবং ব্যয় ৫৯৮১ কোটি (ঊনষাট কোটি একাশি লক্ষ) টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী অর্থবছরের নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার কারনে বাজেটে ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে। এতে করে বাজেট ঘাটতি ৭২.০২লক্ষ (বাহাত্তর লক্ষ দুই হাজার) টাকা অনুমিত হয়েছে যা আগরতলা পুর নিগম তার নিজস্ব আয়ের উৎস ও সরকারী অনুদান প্রাপ্তির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
এই পরিমাণ বাজেট পেশ করা সম্ভব হয়েছে আগরতলা পুর নিগমের রাজস্ব এবং অ-রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ১৫ তম অর্থ কমিশনের অধীনে রাজ্য সরকারের অনুদান এবং রাজ্য সরকারের শেয়ার অফ ট্যাক্সেস, টি ইউ এল এম, এস বি এম,পি এম এ ওয়াই আরবান, স্পেশাল ফান্ড, স্মার্ট সিটি মিশন, এমওয়াইএস, এন্ড ইউ এল এম ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত তহবিলের মাধ্যমে। বাজেটের ব্যয়ের মধ্যে কর্মচারি ও শ্রমিকদের বেতন এবং মজুরি, জ্বালানি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং পুর নিগম এর পরিষেবা প্রদানের অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ অর্ন্তভুক্ত রয়েছে নাগরিকদের পরিষেবার লক্ষ্যে। এছাড়াও পুর এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে বেশ কতগুলো নতুন প্রকল্পে মূলধনী ব্যায় অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।
বিগত অর্থ বছরগুলির আগরতলা পুর নিগমের কার্যকারিতায় ভালভাবে লক্ষ্য করা যেতে পারে যে, আগরতলা শহর ও তার সন্নিহিত এলাকাকে সুন্দর করার জন্য অনেক জলাশয় তৈরি করা হয়েছে, নতুন রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেইন, পাবলিক টয়লেট, পার্ক এবং শ্মশান নির্মানের পাশাপাশি মিউনিসিপাল মার্কেটের মতো কিছু পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপপূর্ণ স্থানে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আগরতলা পুর নিগম প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বেশ কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষা মূলক প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
১) বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষে শহরের তিনটি স্থান যথা (ক) শকুন্তলা রোড (খ) রামনগর ৪ নং রাস্তা (গ) সৎসঙ্গ আশ্রম এলাকায় তিনটি নতুন ফ্লাড পাম্প হাউস ২৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান করা হবে।
২) নতুন ফ্লাড পাম্প ও জল নির্গমনকারী পাইপ লাইন বসানো হবে আনুমানিক ৪ কোটি ব্যায়ে।
৩) দুর্গা চৌমুহনী বাজার এলাকায় ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১টি অত্যাধুনিক কসাইখানা নির্মান করা হবে।
৪) পুর নিগমের বর্ধিত এলাকায় ৫ কোটি অর্থ ব্যায়ে নতুন বৈদুতিক লাইন সম্প্রসারণ, রাস্তা ও ড্রেইন নির্মান প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
৫) নতুন ওয়ার্ড অফিস নির্মান বাবদ ৫ কোটি টাকা ব্যায় ধার্য করা হয়েছে।
৭) ৩.৩০ কোটি টাকা ব্যায়ে শহরের ৩টি শ্মশানে বৈদ্যতিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
শহরের ৫টি বড় জলাশয় যথা (ক) শিব বাড়ি (খ) প্রতাপগড় ঋষি কলোনী (গ) অভয়নগর বাজার (ঘ) অভয়নগর ভেটেরেনারী হাসপাতাল (ঙ) রাধানগর পুকুর সৌন্দর্যায়ন ও পুনঃনির্মানের লক্ষে ১৭ কোটি টাকার অনুমিত ব্যায় ধার্য করা হয়েছে।
৮) ত্রিপুরা জল বোর্ড প্রকল্প ব্যতিত শহরে পানিয় জলের সরবরাহের উন্নতি কল্পে পুর নিগম ১১ কোটি টাকা ব্যায় বরাদ্দের প্রস্তাব করছে।
৯) পুর এলাকায় মশক নির্মূলিকরণের লক্ষ্যে ফগিং মেশিন ও কীটনাশক সংগ্রহ বাবদ ৫গুণ অধিক অর্থ ব্যায় বরাদ্দের প্রস্তাব বাজেটে রাখা হয়েছে।
১০) রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আই জি এম হাসপাতালের চাপ কমানোর লক্ষ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে জেকশান গেইট এলাকায় পুর নিগমের নিজস্ব জমিতে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‘আগরতলা সিভিল হসপিট্যাল’ চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উক্ত বরাদ্দ অর্থ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যায় করা হবে নানাবিধ নির্মান কাজে এবং বাকী ৫ কোটি টাকা বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় বাবদ ব্যায় করা হবে। প্রস্তাবিত হাসপাতালটিতে ২৪ঘণ্টা ও পি ডি পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে এবং পাশাপাশি উপস্থিত রোগীদের প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে।

১১) ভারত মাতা ক্যান্টিন কাম নাইট শেল্টার নামক একটি নতুন প্রকল্পের অধীন রাজ্য সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা ও ভূর্তুকি মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করছে আগরতলা পুর এলাকায়। এ বাবদ ২কোটি টাকা অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। এরজন্য প্রয়োজনীয় জমিও নির্ধারন করা হয়েছে।
১২) রাজ্য সরকার আগরতলা পুর এলাকায় জিবি বাজার, বটতলা বাজার, আখাওড়া গোল চক্কর ও লেইক চৌমুহনী বাজারে নতুন পাকা বাড়ী নির্মানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগরতলা পুর নিগম এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভলাপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ADB) ১২০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে, যার মাধ্যমে রাস্তা, গলি, ড্রেইন, কালর্ভাট ইত্যাদি নির্মানের ব্যাপক উদ্যোগ রূপায়নের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে।
আগরতলা পুর এলাকায় গৃহ নির্মানের জন্য ত্রিপুরা বিল্ডিং রুলস, ২০১৭ কার্যকর আছে। উক্ত আইনের বিধান অনুযায়ি এ যাবৎকাল পর্যন্ত আবেদনকারীকে অন-লাইন পদ্ধতিতে দরখাস্ত জমা দেওয়ার বিধান ছিল। বর্তমানে এই ব্যবস্থার পরিবর্তে অটো-ডি সি আর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং সমস্ত প্রকৌশলীদেরকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাজেট পেশ করে মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় পূরণ এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে কাজ করে চলেছে। পুর নিগম সুন্দর, স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন যানজটমুক্ত আগরতলা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে।এমতাবস্থায় নাগরিকরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতার আহ্বান রাখেন তিনি।
পুর নিগমের প্রতিটি কর্পোরেটর ই স্বচ্ছতার সঙ্গে সুন্দরভাবে কাজ করে চলেছে। আগামী দিনে নিজস্ব সোর্স থেকে ইনকাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে নিগম। পাশাপাশি বিগত তিন বছর ধরে কোন নাগরিক পরিষেবা কর বৃদ্ধি করা হয়নি বলেও জানান মেয়র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *