আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে পানীয় জলের সমস্যা। বিশুদ্ধ পানীয় জল অনেক এলাকাতেই পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে পুর নিগম জল বোর্ডের সহায়তায় শহরবাসীকে পরিশোধিত পানীয় জল সরবরাহ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসেবে একাধিক এলাকায় পানীয় জলের প্লেন্ট চালু করা হয়েছে। কুড়ি নং ওয়ার্ড সহ ৩২ নং ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া এলাকা রামনগর চার নম্বর থেকে ১০-১১ নম্বর পর্যন্ত পেছনদিকে যে সকল এলাকায় পানীয় জল পাচ্ছে না পুরবাসী সেই সকল এলাকায় পরিশোধিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে
মাস্টার পাড়া স্থিত নেতাজি আদর্শ শিক্ষা মন্দির যা নেতাজি বিদ্যাভবনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে গেছে সেই স্কুলের জায়গাটির পাশাপাশি পি ডাব্লিউ ডির জায়গা মিলিয়ে সরকারি মোট ১৬ ঘন্টা জায়গায় রাজ্য সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী ৫.৫ এম এল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই ট্রিটমেন্ট প্লানটি তৈরি হলে ২০ ও ৩২ নং ওয়ার্ড এলাকাসহ রামনগর৪,৫,৬,৭, ৮ ৯ ও ১০ নং এলাকার প্রায় ২৭০০ বাড়িতে জলের কানেকশন দেওয়া যাবে। আজ সেই এলাকা পরিদর্শন করতে যায় মেয়র দীপক মজুমদার , পুর নিগমের সেন্ট্রাল জন চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, জল বোর্ডের আধিকারিক সহ অন্যান্যরা। ২২কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে এই প্রজেক্ট এর খরচ। আজ সেই জায়গা পরিদর্শন করতে গেলে এলাকাবাসী দাবি জানায় এই এলাকায দীর্ঘদিন ধরে শিশু থেকে বয়স্করা খেলার মাঠ সহ মর্নিং ওয়ার্কের জন্য ব্যবহার করে আসছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাদের জন্য যেন কিছুটা জায়গা ছেড়ে এই প্রজেক্ট তৈরি করা হয়। পরিদর্শন শেষে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় মেয়র বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুর নাগরিকদের পরিশোধিত পানীয় জল সরবরাহ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেদিকে লক্ষ্য রেখে মাস্টার পাড়ার নেতাজি আদর্শ শিক্ষা মন্দিরের পরিত্যক্ত সরকারি জায়গায় ৫.৫ পরিশোধিত জলের ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আনুষঙ্গিক সব কাজই সম্পূর্ণ এখন অপেক্ষা কাজ শুরু হওয়ার। যা শুরু হওয়ার পর দেড় বছরের মত সময় লাগবে শেষ হতে। এই প্লেন্টটি তৈরি হলে শহরবাসী অনেকাংশের জলের সমস্যার সমাধান হবে। তবে এলাকাবাসী যে দাবি করেছে সেই দাবির দিকে লক্ষ্য রেখে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করা হবে। তবে আমি আবেদন রাখবো এলাকাবাসী যেন বৃহত্তম স্বার্থে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করেন। উন্নয়নের ব্যাপারে কিছুটা কম্প্রোমাইজ করতেই হয়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা উন্নয়ন বিরোধী নয়। এখানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হোক তারাও এটা চায় তবে তাদের দাবিটাকেও যেন কিছুটা মান্যতা দেয়া হয় সেই দাবি জানান তারা। এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রী কি সিদ্ধান্ত নেন এবং কবে থেকে এই ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শুরু হয়।
