আগরতলা, ২৮ শে মার্চ: শনিবার আগরতলা প্রেসক্লাবে ত্রিপুরা অতিথি অধ্যাপক সংঘের উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং গেস্ট লেকচারারদের সম্মুখীন বিভিন্ন গুরুতর সমস্যার বিষয় তুলে ধরা হয়।এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা অতিথি অধ্যাপক সংঘের কনভেনার ডক্টর সিদ্ধার্থ শংকর দেব, সাধারণ সম্পাদক ডক্টর সুমন আলী, কো-কনভেনার ডক্টর বিক্রমজিৎ সরকার সহ অন্যান্য সদস্যরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে ২৮টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজ, ৫টি পেশাগত কলেজ এবং ৭টি প্রযুক্তিগত কলেজ রয়েছে। কিন্তু ইউজিসি নির্ধারিত ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত অনুযায়ী যেখানে প্রায় ২৪০০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে মাত্র ৫০৭ জন স্থায়ী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এছাড়া বিধানসভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মোট ২৩৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
অন্যদিকে বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে ৭৩২ জন গেস্ট লেকচারার কর্মরত রয়েছেন, যা অস্থায়ী শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতারই ইঙ্গিত দেয়। সংগঠনের মতে, এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মান ও ফলাফল ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ত্রিপুরা অতিথি অধ্যাপক সংঘ রাজ্য সরকারের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে,ইউজিসি নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন গেস্ট লেকচারারদের স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর বা স্টেট এইডেড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।
ইউজিসি নির্দেশিকা অনুযায়ী গেস্ট লেকচারার নিয়োগ করতে হবে।
অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে দিয়ে ইউজিসির “নো ম্যাক্সিমাম এজ লিমিট” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত এই দাবিগুলি বাস্তবায়ন না হলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে।
