হাসপাতালগুলোতে শীঘ্রই ফার্মেসি শপ চালু করতে যাচ্ছে

রাজ্যের প্রধান হাসপাতাল জিবি ও আইজিএম এবং বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালগুলোতে শীঘ্রই ফার্মেসি শপ চালু করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এই ফার্মেসি শপগুলো থেকে রোগীরা খুব সস্তায় ঔষধ কিনতে পারবেন। রোগীদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব ডা: দেবাশিষ বসু এই সংবাদ জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য সচিব জানান, রাজ্যের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে রাজ্য সরকারের আন্তিরকতায় কোনও ঘাটতি নেই। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে যতটা সম্ভব স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছানো যায়, সেই লক্ষ্যে রাজ্যের সর্বত্র কর্মযজ্ঞ চালু রয়েছে। জনগণকে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে রাজ্যে বর্তমানে ৬টি রাজ্যভিত্তিক হাসপাতাল, ৬টি জেলাভিত্তিক হাসপাতাল, ১৪টি মহকুমা হাসপাতাল, ২১টি সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১১৮টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৯৯৯টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৪টি ব্লাডব্যাঙ্ক (সরকারি ১২টি এবং বেসরকারি ২টি), ৬টি ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট (সরকারি ৪টি এবং প্রাইভেট ২টি) এবং ৭টি ব্লাড স্টোরেজ সেন্টার রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব জানান, এজিএমসি অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে বিশেষ সার্জিকেল শিবিরের মাধ্যমে মোট ৫২টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এছাড়াও এজিএমসি অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে সিসি টিভি স্থাপন এবং নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন বসানোর কাজ চলছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থা অধিকারের সাফল্য তুলে ধরে অধিকর্তা ডা: শুভাশিষ দেববর্মা। জানান, ২০২২ সালে ত্রিপুরা হেলথ সার্ভিস রুলস-এর উনিশতম সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত রুলস অনুযায়ী মেডিক্যাল অফিসার ক্যাডারের সংখ্যা ১৪৮০ থেকে বাড়িয়ে ২১৭০ করা হয়েছে। পাশাপাশি মেডিক্যাল অফিসারদের স্পেশালিস্ট ক্যাডার এবং জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার ক্যাডারে বিভক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, আইজিএম হাসপাতালে নবনির্মিত জি+৭ ভবনে চক্ষু ও প্যাথলজি বিভাগ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এবছর সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে ত্রিপুরা হেলথ অ্যাসুরেন্স স্কিম ফর পুওর প্রকল্পের অধীনে ২৫ জন রোগী বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তাতে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া কোভিড মোকাবিলার জন্য সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৩০ হাজার আর টি পি সি আর কটি এবং ৩০ হাজার আর এন এ নিষ্কাশন কীট সরবরাহের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক অধিকারের সাফল্য তুলে ধরে অধিকর্তা ডা: বিপ্রজিৎ দেববর্মা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে খোয়াই জেলার অন্তর্গত মহারাণীপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ২৪X৭ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নিতকরণ করা হয়েছে এবং গোমতী জেলার মির্জা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন বিল্ডিংয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে মোট ২৪টি স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এই রক্তদান শিবিরগুলোর মাধ্যমে ১,৩১৮ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া এইচ আই ভি/এইডস সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং শিরাপথে ড্রাগস নেওয়ার কুফল সম্পর্কে দপ্তর বিভিন্ন সচেতনতামুলক প্রচারাভিযানও সংগঠিত করছে। এছাড়া খাদা সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিগুলিও তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *