আনন্দনগর ১০ নং রাস্তায় একটি ইট সোলিং অংশকে উন্নীত করে সব ঋতুতেই ব্যবহারযোগ্য একটি রাস্তায় পরিবর্তীত করা হয়েছে। ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটি পেভার ব্লক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে এটি একটি কাঁচা রাস্তা ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সড়কপথে চলাচল করা দুঃসাধ্য ব্যাপার ছিল। দুর্বিষহ সে অবস্থা থেকে স্থানীয় মানুষকে মুক্তি দিতে এগিয়ে আসল বর্তমান সরকার। নির্মাণ করা হল উন্নত প্রযুক্তির সড়কপথ। এই রাস্তা তৈরি হওয়ায় আনন্দনগর উড়িয়া পাড়ার ৫০০ পরিবার উপকৃত হবে। সড়কপথের নতুন ওই অংশের নামকরণ করা হয়েছে -অটল বিহারী বাজপেয়ী সরণী। আজ মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা রাস্তাটি উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন জেল মন্ত্রী শ্রী রামপ্রসাদ পাল। এই সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাস্তা মানুষকে রাস্তা দেখায়। শুধু চলাচলের জন্যই নয় নতুন দিশা ও দিগন্ত উন্মোচনেও একটি রাস্তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওই রাস্তা যানবাহন এবং স্থানীয় মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করবে। রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা, কাঁচা রাস্তাগুলোকে পাঁকা করা, মেরামত কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিরবিচ্ছিন্নভাবেই হয়ে চলেছে রাজ্যে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। সবকা সাথ সবকা বিকাশ- এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে উন্নয়ন উপেক্ষিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি,বিদুৎ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল রাজ্য। শিল্প ছিল তবে সেটা হল বাক শিল্প। কথার চাতুর্যে মানুষকে ভুলিয়ে বোকা বানানোর কাজে সিদ্ধহস্ত ছিল বিগত সরকারের নেতা মন্ত্রীরা। দুর্নীতি,স্বজনপোষণ এবং নোংরা রাজনীতি এই সরকারের আমলে প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্যবাসী। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে চলেছে। এই সরকার সাম্য রক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। সকল শ্রেণীর মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে বর্তমান সরকার। বিরোধীরা অভিযোগ করছে রাজ্যে বিদ্যুৎ নেই,জল নেই, আবাস নেই, শিক্ষা নেই ,স্বাস্থ্য নেই ইত্যাদি। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন তাদের চোখে ছানি পড়েছে। তাই তারা দেখতে পারছে না অথবা না দেখার ভান করছে। আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য সাথী মিশন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের বহু মানুষ এখন পর্যন্ত উপকৃত হয়েছেন। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও যথেষ্ঠ ভালো। বিরোধীরাই বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোল পাকিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার চেষ্টা করছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে একটিও রাজনৈতিক খুনের নজির নেই। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে এমন বহু খুনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি অনেক জায়গায় কোন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে প্রথমেই তাকে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করতে বলা হয়। এর থেকেই প্রমান হয় রাজ্যে কি পরিমান খুনের ঘটনা বিগত সরকারের আমলে ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর সাম্প্রতিক রিপোর্ট এর কথা উল্লেখ করেন তাতে ত্রিপুরাকে অপরাধের নিরীখে নিম্ন পাঁচ রাজ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন সব জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কিংবা প্রশাসন সময়মতো পৌঁছে দিতে পারবে এমন কোন কথা নেই। এই কাজে স্থানীয় ক্লাবগুলোকে আরো স্বক্রীয় হওয়ার আহবান জানান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কৃষকদের উন্নয়নে কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথাও তুলে ধরেন। এখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষকদের কৃষিকাজ করে কীভাবে মানসম্মত উৎপাদন করা সম্ভব তাই শেখানো হবে। এমন ৮৩টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে তার মধ্যে আজ সেকেরকোটে একটি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। চাকরিক্ষেত্রে ৩০০০ টেট উত্তীর্ণ শিক্ষক নিয়োগ সহ বিভিন্ন দপ্তরে ৬০০০ এর অধিক স্পেশাল একজিকিউটিভ নিয়োগ করার কথাও জানান তিনি। এখন চাকরি রাজনৈতিক রং বিচার করে দেয়া হয় না, যোগ্যতার নিরীখে দেয়া হয়। আগামীতে আরো চাকরি দেয়া হবে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন সামাজিক ভাতা ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারকে জনবান্ধব সরকার উল্লেখ করে মানিক সাহা বলেন বিরোধীরা ঘোলা জলে মাছ শিকার করার অপচেষ্টা জারি রেখেছে। সরকারের ভাবমূর্তিকে কালীমালিপ্ত করার তাদের সকল প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যের উন্নয়নে ষড়যন্ত্রের জাল বিচ্ছিন্ন করে কাজ করে চলেছে সরকার। পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে প্রভুত উন্নতি হয়েছে ত্রিপুরায়। এখন আগরতলা থেকে নিয়মিত দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করছে। শীঘ্রই সপ্তাহে দুই বার পরিষেবা দিতে শুরু করবে হামসফর এক্সপ্রেস।আগামীতে আগরতলা রেল স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের মতো সাজিয়ে তোলা হবে। উত্তর পূর্বের মধ্যে অন্যতম সেরা বিমানবন্দর হিসেবে আগরতলা এমবিবি এয়ারপোর্টকে গড়ে তোলা হয়েছে। সেই থেকে বেসরকারী বিমান সংস্থাগুলো ত্রিপুরায় যাত্রী পরিষেবা দিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে ।সম্প্রতি আকাসা এয়ারলাইন্স রাজ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে । রেলপথ, সড়ক যোগাযোগ কিংবা বিমান চলাচল সর্বক্ষেত্রেই উন্নত নাগরিক পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর রাজ্যে সরকার।
