পরাধীন ভারতে বীর সংগ্রামী বিরসা মুন্ডা’র নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল মুন্ডা বিদ্রোহ বা মুন্ডা অভ্যুত্থান। তাঁর ডাকেই সংগঠিত হয়েছিল ‘মুন্ডা উল্‌গুলান’ বা তুমুল আলোড়ন। অপরদিকে সিধু ও কানু ভ্রাতৃদ্বয় ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের সাঁওতাল বিদ্রোহের দুজন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। সাঁওতাল বিদ্রোহে সিধু মুরমু ছিলেন সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান নেতা। কিছু লোকের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কানু মুরমু ছিলেন সাঁওতাল বিদ্রোহের দ্বিতীয় প্রধান নায়ক ও সিধুর ভাই। বীরভূম জেলার ওপারে সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মহান শহীদদের তাঁদের অমূল্য বলিদানের জন্য সম্মান জানাতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের বীরগাঁথা তোলে ধরতে ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর উদ্যোগী হয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের দুটি স্থানে এই বীর সংগ্রামীদের মর্মর মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মর মূর্তি দ্রুত স্থাপনের লক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে সচিবালয়ে তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোয়াইের বনবীথী পার্কে বীরসা মুন্ডা’র মর্মর মূর্তি এবং সদর উত্তরের মোহনপুর সংলগ্ন সীমনার ব্রক্ষ্মকুন্ডতে সিধু ও কানু ভ্রাতৃদ্বয়ের মর্মর মূর্তি দ্রুত স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। খোয়াইের বনবীথি পার্কে বীরসা মুন্ডা’র মর্মর মূর্তি এবং ব্রক্ষ্মকুন্ডতে সিধু ও কানু ভ্রাতৃদ্বয়ের মর্মর মূর্তি স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বৈঠকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। খুব শীঘ্রই একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উক্ত দুটি স্থানে এই বীর শহীদদের মর্মর মূর্তিগুলো উন্মোচিত করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আজকের বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মানিক লাল দাস, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড.প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, অধিকর্তা রতন বিশ্বাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক অসীম সাহা, খোয়াই জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক সুভাষ চন্দ্র সাহা, মোহনপুর মহকুমার অতিরিক্ত মহকুমা শাসক দেবজানী চৌধুরী, মোহনপুর মহকুমার অতিরিক্ত সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক প্রসেনজিত ভৌমিক, খোয়াই মহকুমার ডেপুটি কালেক্টর ননী গোপাল দেববর্মা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *