সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রসমূহকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

ত্রিপুরার সার্বিক বিকাশে প্রচুর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র রয়েছে। এই সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রসমূহকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এই সরকার। আজ সচিবালয়ে নীতি আয়োগের সদস্য ডা. ভি কে সরস্বত’ এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের সাথে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চল রাজ্যগুলির সামগ্রিক উন্নয়নে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি গ্রহণ করায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল রাজ্যগুলির বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। আলোচনাকালে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ফিনিশড রাবার রপ্তানি করার ক্ষেত্রে বন্দরভিত্তিক যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রত্যাহারের জন্য নীতি আয়োগের সহযোগিতা চেয়েছেন।
বৈঠকে নীতি আয়োগের সদস্য ডা. ভি কে সরস্বত বলেন, ত্রিপুরা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। রয়েছে প্রচুর কৃষঙ্গ জমি ও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ। রাজ্যে উদ্যান, ফুল এবং রাবার চাষের ক্ষেত্রের উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রাজ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তির সংযোগ সম্প্রসারণের উপরও বিশেষভাবে জোর দিয়েছে ডা. ভি কে সরস্বত। তিনি ত্রিপুরায় রাবার এবং বাঁশের উপর সেন্টার অব এক্সিলিন্স স্থাপনের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। তিনি রাজ্যকে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি গ্রহণের উপর বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে নীতি আয়োগের বরিষ্ঠ উপদেষ্টা রাজীব সেন ত্রিপুরার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ, উন্নয়নের সম্ভাবনাময় দিক সহ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়সমূহ সম্পর্কে এক রূপরেখার উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের ফলে রাজ্যের জিডিপি গ্রোথ অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন, বন, সীমান্ত বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রের উন্নয়নে রাজ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কৃষি, শিক্ষা, এমএসএমই পর্যটন ক্ষেত্রগুলির বিকাশে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব জে কে সিনহা রাজ্যে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি এবং টার্শিয়ারি সেক্টরের উন্নয়নে যেসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের মাথাপিছু গড় আয়। বৈঠকে রাজ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, সচিবগণ সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *