ছাত্রছাত্রীরা হল দেশের ভবিষ্যৎ। তারা সুনাগরিক হলে দেশের কল্যাণ হবে। তবে
পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি চাই বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও বিভিন্ন শিল্পকলার চর্চা। তবেই এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত এবং এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্ন ভারত শিক্ষা, পরম্পরা সংস্কৃতি ও আধুনিকতায় একদিন বিশ্বে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করবে। আজ শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ আগরতলা টাউনহলে রাজ্যভিত্তিক দু’দিনব্যাপী কলা উৎসবের সমাপ্তি তথা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, রাজ্য সরকার চায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে লেখাপড়ার সাথে সাথে উদ্ভাবনীশক্তি ও শিল্পকলা চর্চার প্রসার ঘটুক। তাই ছাত্রছাত্রীদের গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই লক্ষ্যে শিক্ষা দপ্তর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অঙ্ক ও বিজ্ঞানে মেধা অন্বেষণ, বছর বাঁচাও, সুপার থার্টি, বন্দে ত্রিপুরা চ্যানেল, নিপুন ত্রিপুরা, মিশন মুকুল ইত্যাদি প্রকল্প চালু করেছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী: পর্যন্ত বিনামূল্যে ওয়ার্ক বুক দেওয়া হচ্ছে। ১২৫টি মিশন বিদ্যাজ্যোতি স্কুল চালু করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এতে সাফল্যও আসছে। এবছর ধর্মনগরের গোল্ডেন ভ্যালী বিদ্যালয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল নাটক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করেছে। শিশুবিহার স্কুলের ছাত্রী মধুরিমা দাস পিপিটি তৈরী করে দিল্লি থেকে দ্বিতীয় পুরস্কার এনেছে।
অনুষ্ঠানে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের স্টেট প্রজেক্ট ডিরেক্টর বিম্বিসার ভট্টাচার্য জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রাজ্য দেশের মধ্যে পারফরমিং ইনডেক্সে গ্রেড ওয়ান-এ রয়েছে। রাজ্যস্তরের এই কলা উৎসবে ৮টি জেলা থেকে ১০টি ইভেন্টে ১৬০ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রতিটি ইভেন্টের ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানাধিকারীদের যথাক্রমে ৩০০০ টাকা, ২০০০ টাকা, ১০০০ টাকা অর্থিক পুরস্কার, শংসাপত্র ও স্মারক দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ভোকাল ক্লাসিক্যাল মিউজিক প্রতিযোগিতায় সিপাহীজলা জেলার প্রথম স্থানাধিকারী স্মিতা গোস্বামীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তাছাড়াও অন্যান্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সমগ্র শিক্ষা অভিযান দু’দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক কলা উৎসবের আয়োজন করে।
