রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনায় ৩ লক্ষ ৯২ হাজার পরিবারকে ফল চাষে সহায়তা দেওয়া হয়েছে

ফল ও সব্জি চাষের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তর বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফল ও সব্জির চাহিদা মেটাতে বহিরাজ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে দপ্তর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে একথা জানান। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনায় ২০২১-২২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৯২ হাজার পরিবারকে ফল চাষে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও ৪ লক্ষ পরিবারকে সব্জি চাষের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে কৃষি দপ্তরের সচিব জানান, ফুল চাষের মাধ্যমে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার পরিবারগুলিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্প উদ্যান প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে ২০২১-২২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের এখন পর্যন্ত ৮৭৪ হেক্টর এলাকাকে ফুল চাষের আওতায় আনা হয়েছে। মাশরুম চাষীদের মাশরুম বীজের অভাব দূর করার জন্য এখন পর্যন্ত রাজ্যে ৮ টি মাশরুম বীজ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে এখন পর্যন্ত মোট ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮৬৬ টি মাশরুম বীজের প্যাকেট তৈরি করা হয়েছে। সচিব জানান, রাজ্যের বিখ্যাত আনারসকে দেশ-বিদেশের বাজারে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর একটি ভিজ্যুয়াল ডিজিটাল লোগোর উদ্বোধন করা হয়েছে। বিগত সাড়ে চার বছরে মোট ১০০ ১৫.৩৮ মেট্রিক টন আনারস দেশের বিভিন্ন রাজ্য সহ দুবাই, কাতারে রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য উদ্যানজাত ফসলের মধ্যে আপেল, তেঁতুল, পান পাতা, কাঠাল, সুগন্ধি লেবু ইত্যাদি বাংলাদেশ, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও দুবাই রপ্তানী করা হয়েছে। তিনি জানান, রাজ্যে ৫৩০ হেক্টর জমিতে পাম অয়েল চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তর। এরজন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে ইতিমধ্যেই ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষি দপ্তরের সচিব জানান, রাজ্যে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে ৫০ হাজার সবরি কলার চারা উৎপাদনের জন্য তামিলনাড়ুর তিরুচেরাপল্লীস্থিত জাতীয় কলা গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারের একটি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষিত রাখার জন্য চলতি বছরের নভেম্বরের ২৪ তারিখ গোলাঘাটিতে একটি পোস্ট হার্ভেস্ট সেন্টার এবং একটি গ্রামীণ সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্ধোধন করা হয়েছে। রাজ্যের ১৫,৩৬৮ হেক্টর এলাকা হাইব্রিড সব্জি চাষের আওতায় আনা হয়েছে। এরফলে ৭৬,৮৪০ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও ৯,৪৪৬ হেক্টর জমি ফল চাষের এবং ৯১৯ হেক্টর জমি মশলা চাষের আওতায় আনা হয়েছে। কোভিড অতিমারির সময়ে রাজ্যের ৬৯৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত ফুলচাষীকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে সচিব সাংবাদিক সম্মেলনে জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের অধিকর্তা ফণিভূষন জমাতিয়া উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *