আগে যখন কোন নির্বাচন হতো তারপর সারা রাজ্য জুড়ে সাইরেন বাজতো। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর থেকে মুক্তি পেয়েছে মানুষ। আজ ভারতীয় জনতা পার্টির দক্ষিণ ( পিলাক ) জেলায় দলীয় কার্যালয় ( অটল ভবন ) এর দ্বারউদঘাটন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসার ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজত্বকালে যেকোনো নির্বাচনের পর রাজ্যের মানুষকে সন্ত্রাস, অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণ দেখতে হচ্ছে না । এটাই কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি থেকে আলাদা পার্টি বিজেপির আদর্শ।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সিপিএমের ২৫ বছরের রাজত্বে শুধুমাত্র দক্ষিণ জেলায় কতজন খুন হয়েছেন তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারা রাজ্যের হিসাব বাদ রেখে শুধুমাত্র অভিভক্ত দক্ষিণ জেলায় সিপিএমের সন্ত্রাসে যতজন খুন হয়েছেন তার হিসাব দিতে গেলে বিরাট সময়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, ওই রাজত্বে প্রায় ৬৯ জন খুন হয়েছেন । এদের মধ্যে সুবল মজুমদার, পরিমল সেন, নিতাই দেবনাথ, বিশু সাহা, সাধনা দেবনাথ, রোহিনী বিশ্বাস, গুনহর রিয়াং, যদু নন্দন দত্ত এই কজনের নাম উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনো যারা চায় মানুষকে ভয় দেখিয়ে, দাবিয়ে রেখে রাজনীতি করতে । তাহলে তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী এদিন তৃণমূল কংগ্রেস দল সম্পর্কেও সবাইকে সচেতন করেন । তিনি বলেন, নির্বাচন আসছে, এই দলও ত্রিপুরায় আসবে। কিন্তু যে দল পশ্চিমবাংলাকে মিনি পাকিস্তান বানিয়েছে, সেই দল সম্পর্কে ত্রিপুরাবাসীকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে ।তিনি বলেন, কংগ্রেস দল একটা উশৃংখল দল। কংগ্রেস ভবনের কালচার রাজ্যবাসী দেখেছে। কিন্তু ব্যতিক্রমী কালচার একমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টির প্রত্যেকটা পার্টি কার্যালয় । দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ও তার উদাহরণ হবে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন বিকাশমূলক প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন । ‘প্রতি ঘরে সুশাসন’, ‘আমার পোর্টাল’ ইত্যাদির উদাহরণ টেনে বলেন রাজ্যে বর্তমানে স্বচ্ছ নীতি আদর্শের সরকার রয়েছে । এই প্রসঙ্গে তিনি টেট উত্তীর্ণদের অফারবিলি ও জেআরবিটি’র ফলাফলের উদাহরণ টানেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গুজরাটে ভারতীয় জনতা পার্টির বিপুল জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দলের সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন জানান। রেকর্ড সংখ্যক আসনে এই জয় মোদী ম্যাজিকের প্রতিফলন বলেই তিনি মন্তব্য করেন। দলের নবনির্মিত দক্ষিণ জেলা কার্যালয়কে মন্দিরের মতো দেখবার জন্য তিনি দলের কার্যকর্তাদের প্রতি আহ্বান রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ বিজেপির সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য সিপিআইএম দলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেই দল ২৫ বছর টানা রাজত্ব করেছে, এখন আস্তাবল ময়দানে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে, ভারতীয় জনতা পার্টিকে ত্রিপুরা রাজ্যে পরাজিত করতে হলে সিপিআইএম দলের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এই দল “ইনক্লাব জিন্দাবাদ, আমরা খাব তোমরা বাদ’ এই নীতি নিয়ে রাজ্যের মানুষকে শোষণ করার ফলেই তাদের এই অবস্থা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজীব ভট্টাচার্য বলেন বর্তমান সরকারের সময়ে সামাজিক ভাতা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে আর আন্দোলন করতে হচ্ছে না । রাজ্যে বর্তমানে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাসের’ নীতি আদর্শে প্রতিষ্ঠিত সরকার রয়েছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আসাম এবং ত্রিপুরা সংগঠন মহামন্ত্রী ফনীন্দ্র নাথ শর্মা, দক্ষিণ জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক শংকর রায়, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, দলের সহ-সভাপতি তাপস ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক টিংকু রায়, পাপিয়া দত্ত, যুব মোর্চার সভাপতি নবাদল বণিক, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ঝর্ণা দেববর্মা, দক্ষিণ জেলা জিলা পরিষদের সভাপতি কাকলি দাস দত্ত, বিলোনীয়া পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন নিখিল গোপ সহ অন্যান্যরা।
