🧧🚨খুন, সন্ত্রাস, গুন্ডাবাজিতে কখনো বিশ্বাস করে না ভারতীয় জনতা পার্টি: মুখ্যমন্ত্রী

খুন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, গুন্ডাবাজিতে কখনো বিশ্বাস করে না ভারতীয় জনতা পার্টি। ভারতীয় জনতা পার্টি এমন একটা পার্টি যে পার্টি দেশের এবং দেশবাসীর কল্যাণের জন্য হামেশাই ভাবনা চিন্তা করে। এই পার্টি দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে কখনো আস্থা রাখে না। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বিশ্বাস করে এই পার্টি। আর একটানা ২৫ বছরের শাসন এবং আরো ১০ বছরের শাসনে কমিউনিস্ট পার্টি রাজ্যকে উপহার দিয়েছিল খুন, সন্ত্রাস, রাহাজানি, অগ্নিসংযোগ সহ একের পর এক অনভিপ্রেত ঘটনা। জনসাধারণের কল্যাণে এরা কোন সদর্থক কাজ করতে পারে নি। শুধু দুর্নীতি, কেলেঙ্কারির মাধ্যমে এরা রাজ্যকে দিনের পর দিন রসাতলে নিয়ে গিয়েছিল। আর তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলে প্রতিবাদ জানিয়ে পরিকল্পিতভাবে নৃশংস খুন হতে হয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টির একনিষ্ঠ কার্যকর্তা চাঁন মোহন ত্রিপুরা। সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টির শহীদ চাঁন মোহন ত্রিপুরার বলিদান দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে ধলাই জেলার গন্ডাতৈসায় আয়োজিত এক জনসভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চাঁন মোহন ত্রিপুরার প্রতিবাদী মানসিকতা তাদের মনে ভয় ধরিয়েছিল। তাই পরিকল্পনা করেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। তবে চাঁন মোহন ত্রিপুরার মৃত্যু বিফলে যায়নি। তার নৃশংস খুনের ঘটনার পর গর্জে উঠেছিল সারা রাজ্য। শহীদ চাঁন মোহন ত্রিপুরাকে শ্রদ্ধা জানাতে ঝড়বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিশাল যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই যজ্ঞ থেকে শহীদের চিতাভস্ম সারা রাজ্যের ৬০টি মন্ডলে শ্রদ্ধার সঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
       এদিন চাঁন মোহন ত্রিপুরার স্মরণে আয়োজিত সভায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির ধলাই জেলা সভাপতি বিধায়ক পরিমল দেববর্মা, সহ সভাপতি বিকাশ চাকমা, এডিসি সদস্য ভুমিকানন্দ রিয়াং, প্রাক্তন এডিসি সদস্য পতিরাম ত্রিপুরা সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আরো বলেন, কিছুদিন আগে দক্ষিণ জেলায় যায়। সেখানে গিয়ে পরিসংখ্যান থেকে জানতে পারি যে, খুন সন্ত্রাসের সরকারের সময়ে শুধু দক্ষিণ জেলাতেই ৬৯ জন রাজনৈতিক খুন হয়েছিলেন। ঘাতক বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছে তাদের। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার মানুষের কল্যাণে বিশ্বাস করে। জাতি জনজাতির কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে দিশা দেখিয়েছেন সেই দিশায় কাজ করে চলছে রাজ্যের বিজেপি সরকারও। জনজাতিদের সার্বিক কল্যাণ সাধনে এই সরকার ধারাবাহিক কাজ করে চলছে। জনজাতি আবেগকে সম্মান জানাতে আগরতলা এয়ারপোর্টের নাম মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের নামে করা হয়েছে। যেটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম সেরা একটি এয়ারপোর্ট। এর পাশাপাশি গড়িয়া পুজোতে দুদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ এই সরকার মানুষকে সম্মান করতে জানে। জনজাতিদের পরম্পরা অটুট রাখতে বিভিন্ন জায়গা, পাহাড় পর্বতের নামও বদল করা হয়েছে।
          মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু জনজাতি না, তফসিলি অংশের মানুষের কল্যাণেও কাজ করছে সরকার। এই সরকার বিশ্বাস করে সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। কিন্তু কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। এখনো লাল ফ্ল্যাগ নিয়ে অনেকে ঘুরাঘুরি করছে। আবারো ৯৩ এর কায়দায় সরকার গড়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এসবের বিরুদ্ধে সতর্ক হতে হবে এবং রুখে দাঁড়াতে হবে। সেই সাথে বিরোধী মহল রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে মিথ্যে তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় রয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যান থেকে এই মুহূর্তে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার নিরিখে দেশের ২৮টি প্রদেশের নিচের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। কারণ এই সরকার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে খুন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্য। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছে রাজ্যের মানুষ। ভারতীয় জনতা পার্টি কোনদিন খুন, সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। এই পার্টি মানুষের স্বার্থে কাজ করে সবসময়। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার মানুষকে সাথে নিয়েই কাজ করতে চায়। অতীতে মানুষের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন ত্রিপুরায় উন্নয়নমূলক কাজের জোয়ার বইছে। বর্তমানে ৬টি জাতীয় সড়কের কাজ চলছে। আরো ৭টি জাতীয় সড়কের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। আগে সিপিএম সবসময় আন্দোলন নিয়ে পড়ে থাকতো। কেন্দ্র দেয় না, কেন্দ্র দেয় না বলে সবসময় জিগির তুলতো। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করার আগেই সবকিছু দিয়ে দিচ্ছে। এটাই বাস্তব।
       মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা আরো বলেন, আমরা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কাজ করি। কাউকে আঘাত করে নয়। বিজেপি দেশের কথা বলে, মানুষের কথা বলে। প্রতি ঘরে সুশাসন অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আর এই কার্যক্রমে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের হাতে এসটি সার্টিফিকেট, এসসি সার্টিফিকেট, ম্যারেজ সার্টিফিকেট, আয়ুষ্মান কার্ড সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক নথিপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে স্বসহায়ক দলের সংখ্যা ২০১৬ – ১৭’র তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এধরণের স্বসহায়ক দলের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে মানুষের। এখন রাজ্যের সর্বত্রই উন্নয়নমূলক কাজে গতি এসেছে। সাধারণ মানুষ যাতে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারে সেজন্য ‘আমার সরকার’ নামে একটি ওয়েব পোর্টাল খোলা হয়েছে। এখনো কিছু প্রতিক্রিয়াশীল পার্টি চেষ্টা করছে গায়ের জোরে মানুষের সমর্থন আদায় করার। কিন্তু এই সরকার সেটা কোনমতেই বরদাস্ত করবে না। রাজ্যের আপামর জনসাধারণের আশীর্বাদে আগামীতেও ভারতীয় জনতা পার্টিই রাজ্যে পুনরায় সরকার গড়বে। আর এটাই নিশ্চিত। এই সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় সদা সচেষ্ট রয়েছে ও থাকবে।
    এদিকে সভা শুরু হওয়ার আগে শহীদ চাঁন মোহন ত্রিপুরার শহীদবেদিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা সহ ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভা থেকে এদিন আওয়াজ উঠে শহীদ চাঁন মোহন ত্রিপুরার মৃত্যু বৃথা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *