🚨🧧রাজ্যে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে: মুখ্যমন্ত্রী

যার কাছে যত বেশি জ্ঞান থাকবে সেই আগামীদিনে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যাদের মধ্যে জ্ঞান বিদ্যমান তারাই হলো আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। তাই রাজ্য সরকার রাজ্যে গুণগত শিক্ষার উপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। আজ জিরানীয়া মহকুমার মোহনপুরে জিরানীয়া আইন কলেজের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এ উপলক্ষে রাণীরগাঁও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব, জিরানীয়া পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান প্রীতম দেবনাথ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের দেশের অন্যান্য অগ্রসর রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের সমকক্ষ করে তুলতে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই প্রয়াস নিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, মহকুমা ও ব্লক এলাকায় বিদ্যালয়গুলির উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই আইন কলেজ যাতে আগামীদিনে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হয়ে উঠে তার জন্য কলেজের পরিচালন কমিটিকে উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। আইন কলেজটিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা যাতে পড়াশুনার সুযোগ পায়, সে বিষয়টিও পরিচালন কমিটিকে দেখতে হবে৷ আগে আইন বিষয় নিয়ে পড়ার জন্য রাজ্যের বাইরে যেতে হতো। এখন জিরানীয়া মহকুমাতেই আইন কলেজ গড়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে রাজ্যে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। উত্তর ত্রিপুরা জেলায় আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকায় একটি মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, শিক্ষা মানে জীবন। শিক্ষা মানে মুক্তি। শিক্ষা মানে আলো। তাই উন্নত মানবসম্পদের জন্য চাই গুণগত শিক্ষা। তিনি বলেন, রাজ্যের সার্বিক বিকাশে বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। গুণগত শিক্ষার প্রসারে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, জিরানীয়া আইন কলেজকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, জিরানীয়ায় আইন কলেজ হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এক দাবি পূরণ হলো। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার আনন্দনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পরিচালনায় পিপিপি মডেলে এই কলেজ চলবে। এখানে আসন সংখ্যা রয়েছে ৬০টি। এরমধ্যে ২০টি থাকবে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আইন কলেজ চালু হওয়ার ফলে শিক্ষার একটা পরিবেশ গড়ে উঠবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনন্দনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি বিষ্ণুপদ দাস। তাছাড়া বক্তব্য রাখেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন সি শর্মা। অনুষ্ঠানে রাণীরগাঁও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৩ জন ছাত্রীকে বাইসাইকেল ও ৩৫ জন ভূমিহীনকে জমির এনওসি দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *