রাজ্যের চিরন্তন ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরম্পরার একটা বহমান ধারা রয়েছে। এই বহমান ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার আন্তরিক প্রয়াস নিয়েছে। নাস্তিকের বাতাবরণ থেকে আমরা আস্তিকের বাতাবরণে ফিরে এসেছি। আগরতলার ঐতিহ্য আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। আজ সন্ধ্যায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আগরতলা পুরনিগম আয়োজিত শারদ সম্মান ২০২২-এর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এবছর আগরতলা পুরনিগমের একান্নটি ওয়ার্ডে দুর্গাপূজার উদ্যোক্তাদের মধ্যে সেরা প্রতিমা, সেরা প্যান্ডেল, সেরা আলোকসজ্জা এবং সেরা থিমপূজার জন্য চারটি জোনে ২১টি ক্লাবকে আজ পুরস্কৃত করা হয়। তাছাড়া মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত সেরা দুর্গাপূজার জন্যও পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিচারিতার পরিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা নিজেদের চিনতে পারছেন। আপনারা বুঝতে পারছেন কেন দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই অভিভাবকগণ বিভিন্ন সামাজিক কাজে এগিয়ে আসুন। বর্তমানে শুধু মহিলারাই শারদ উৎসবের আয়োজন করছেন। মহিলারা বিভিন্ন উন্নয়নের কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। তাতে পরিবর্তনের হাওয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে যারা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই আমরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ার কাজ করতে পারবো। মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা শহরের বিভিন্ন ক্লাবগুলিকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব বলেন, আগরতলা শহরকে আরও সুন্দরকে গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পানীয়জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রভৃতিতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। স্বচ্ছ শহর হিসেবে আগরতলা ইতিমধ্যেই জাতীয়স্তরে পুরস্কৃত হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু শারদ উৎসবই নয়, আগরতলা শহরের প্রতিটি ক্লাবকে ২০ হাজার টাকা করে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, আগে বাছাই করা কতিপয় ক্লাবকে পুরস্কার দেওয়া হতো। বর্তমানে রাজনীতির উর্ধে উঠে রাজ্য সরকার আগরতলা পুরনিগম বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছে। তিনি বলেন, যে ক্লাবগুলি পুরষ্কৃত হয়েছে তারা ছাড়াও অন্য ক্লাবগুলি এবার শারদোৎসবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে। আগামীদিনে ক্লাবগুলি যেন আরও সুন্দরভাবে শারদোৎসবের আয়োজন করতে পারে তারজন্য উৎসাহ দিতেই আজ এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগরতলা শহরকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের এবং দেশের একটি শ্রেষ্ঠ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, এবারের
শারদোৎসবে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চাঁদার জুলুম হয়েছে বলে কোনও অভিযোগ কেউ করেননি। তিনি বলেন, আগরতলার দুর্গাপূজা ক্রমশ আরও আকর্ষণীয় হচ্ছে। রাজ্যের অন্যান্য জায়গা থেকে এমনকি বহিরাজ্য ও বিদেশে থাকা ত্রিপুরার নাগরিকরাও এখানে পূজা দেখতে আসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার ড. শৈলেশ যাদব। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, অতিরিক্ত কমিশনার মহম্মদ সাজ্জাদ পি।
অনুষ্ঠান মঞ্চে বিচারকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের হাতে সুদৃশ ট্রফি এবং আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন।
