ভারতীয় জনতা পার্টির সাতটি মোর্চা রয়েছে, এর মধ্যে যেকোনো একটি মোর্চার সমাবেশেই জনগনের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । গত ১৮ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জীর জনসভায় মা-বোনেদের বিশাল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে জনঢল লক্ষ্য করা গেছে। এখন বিরোধীরা শংকিত হয়ে গেছে, তারা বুঝে গেছে লম্ফঝম্প করেও ২০২৩ এর নির্বাচনে আর লাভ হবে না। আজ আগরতলার নেতাজি স্কুল ময়দানে বিজেপি ওবিসি মোর্চা, ত্রিপুরা প্রদেশের উদ্যোগে আয়োজিত জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, রাজ্যের যেখানেই ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে সমাবেশ আয়োজিত হচ্ছে, সেখানে মা-বোনেদের বিশাল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে যে জন ঢল নেমেছিল, তা তিনি জীবনে কখনো দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন ।
বিরোধীদল গুলোর তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি যখন শুধুমাত্র উন্নয়ন নিয়ে কথা বলে, তখন বিরোধীরা শুধু অ্যালায়েন্স অ্যালায়েন্স করছে। কংগ্রেস সিপিএম মিতালী শুরু হয়ে গেছে। ৬% ভোটের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসও রাজ্যে আসতে শুরু করেছে। এদিন তিনি আবারও কংগ্রেসকে উশৃংখল পার্টি, সিপিএমকে সন্ত্রাসের পার্টি বলে উল্লেখ করেন । এই দুইয়ের সমন্বয় তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রয়েছে বলে ও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগের সরকারের সময়ে শুধুমাত্র স্ক্যাম এই শব্দটা শোনা যেত। কোন প্রকার দুর্নীতি ছাড়া কিভাবে সরকার চালানো যায় তা প্রধানমন্ত্রীর শ্রী নরেন্দ্র মোদী দেখিয়েছেন । সেই দিশাতেই বর্তমান রাজ্য সরকারও কাজ করছে, নিয়মিত-অনিয়মিত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি আশা ও অঙ্গনারী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুড গভর্নেন্স কাকে বলে তা দেখিয়ে দিচ্ছে বর্তমান সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সড়ক পথ, রেলপথ, বিমান পথে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে ।আর কিছুদিনের মধ্যেই গৌহাটি আগরতলা আলাদা ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছেন। বর্তমান সরকারের সময়ে মহিলাদের জীবনমান বিকাশে যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি বলেন চাকুরী ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, ভাইফোঁটার দিনে কলেজ স্তরে বিনা খরচায় মহিলাদের পড়াশোনা করার সুযোগ, বিগত সরকারের তুলনায় স্ব সহায়ক দলের সংখ্যা ১০-১১ গুণ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়কে সুনিশ্চিত করতে আজ থেকেই সবার সাথে ওবিসি মোর্চা কেউ মাঠে নেমে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি ওবিসি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি ডঃ কে লক্ষণ বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের সকল অংশের মানুষের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত অভিযান, উজ্জ্বলা যোজনা সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। দেশজুড়ে গরীব অংশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পাকা ঘরে থাকার সৌভাগ্য মিলেছে । প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফলে এর বিশাল সুফল পেয়েছেন ত্রিপুরার মানুষও।
সমাবেশের বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় বিজেপির সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তপশিলি জাতি, জনজাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রার বিকাশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন । তিনি বলেন, শ্রীমতি নির্মলা সীতারমণ অর্থমন্ত্রী হয়েছেন, জনজাতি সম্প্রদায় থেকে শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, এই সবই সম্ভব হয়েছে দেশের সকল অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান বিকাশে লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফলে।
এদিনের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ বিজেপির সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, বিরোধীরা এখন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কিন্তু বিগত সিপিএম সরকারের রাজত্বকালে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা কতটা তলানিতে গিয়েছিল তা সাধারণ মানুষ ভালো করেই জানেন। সদর এস ডি এম অফিসে মহকুমা শাসক শুখরাম দেববর্মা খুন হয়ে গেলেন, কেউ জানতেও পারলেন না কিভাবে খুন হলেন, কারা খুন করলেন। তিনি বলেন ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মানুষ ভুলে গেছে রাজনৈতিক হিংসা কাকে বলে।
এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, ওবিসি মোর্চার প্রদেশ সভাপতি সমীর ঘোষ, বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী, বিজেপির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক কিশোর বর্মন, ওবিসি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান তাপস মজুমদার সহ অন্যান্যরা।
