সমস্ত দপ্তরের সহাবস্থান একই ছাদের তলায় হলে দ্রুত জনগণকে পরিসেবা প্রদান করা যায়। এই উদ্দেশ্যেই বহুতল বিশিষ্ট রাজ্য প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ গুর্খাবড়ি পন্ডিত নেহেরু কমপ্লেক্সে (বি+জি+ ১৪) বহুতল বিশিষ্ট রাজ্য প্রশাসনিক ভবনের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষের বিভিন্ন কাজে আগরতলায় অফিসগুলিতে আসতে হয়। সব অফিস বিল্ডিংগুলি একই জায়গায় না থাকায় মানুষের অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। যখন একই ছাদের তলায় সব অফিসগুলি থাকবে তাদের সমস্যা যেমন নিরসন হবে পাশাপাশি সময়ও লাঘব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই অফিস বিল্ডিং নির্মাণের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সরকার চেষ্টা করবে সঠিক সময়ে এই নির্মাণকার্য সম্পন্ন করতে। তিনি বলেন, এই প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ শেষ হতে হয়ত অনেক কর্মচারি অবসরে চলে যাবেন। কিন্তু আগামী প্রজন্ম এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের মূল কথাই হচ্ছে উন্নয়ন। সেই উন্নয়নের মার্গ দর্শনেই রাজ্যের বর্তমান সরকার মানুষের জন্য কাজ করে চলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমুখী কর্মপ্রণালি যেমন, দেশের থানাগুলিকে উন্নিত করার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একই ছাদের তলায় যখন সমস্ত দপ্তরগুলি থাকবে জনগণকে বেশী করে পরিসেবা প্রদান করাও সম্ভবপর হবে। পাশাপাশি পুরোনো অফিস বিল্ডিং এর জায়গাগুলিকে অন্যকাজেও ব্যবহার করা যাবে। এই অফিস বাড়িতে আনুষঙ্গিক সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা আরও বলেন, এই সরকার চায় সবকিছুই শৃঙ্খলাবদ্ধের মধ্যে থেকে সম্পন্ন করতে। এই দিশাতেই বর্তমান সরকার কাজ করে চলছে। তিনি সরকারি কর্মচারিদের উদ্দেশ্য বলেন, জনগণকে সর্বোচ্চ পরিসেবা প্রদান করাই কর্মচারিদের মুখ্য উদ্দেশ্যে থাকা প্রয়োজন। সবার সেই দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়েই নিজের কর্মক্ষেত্রকে তৈরী করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কর্মসংস্কৃতির উন্নতি ঘটেছে। আন্দোলনের সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে। চাদা সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সরকারি কর্মচারিদের প্রথমে ৩ শতাংশ, এরপর ৫ শতাংশ, সম্প্রতি ১২ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সরকার সবার সরকার, আমার সরকার। কিছুদিন পূর্বে ‘আমার সরকার” নামে একটি ওয়েব পোর্টাল সরকার চালু করেছে। যার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে জনগণ তাঁর নিজ সমস্যা সরকারের কাছে প্রত্যক্ষভাবে জানাতে সক্ষম হবে। কর্মচারিরা মানুষের কাছে সরকারের জনকল্যাণমুখি প্রকল্পগুলি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের দায়িত্ব অনেক বেশী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনা দেশের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। সেই ভাবনাকে সঙ্গে নিয়েই বর্তমান রাজ্য সরকার কাজ করে চলছে। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, মুখ্য সচিব জে. কে. সিনহা, পূর্ত দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, পূর্ত দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বাস্তুকার অনুপ কুমার দাস, ত্রিপুরা হাউজিং এন্ড কনস্ট্রাকশন বোর্ডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সঞ্চয়িতা দাস প্রমুখ।
