🚨🧧১৫টি পঞ্চায়েতের নতুন ভবন এবং ১০৮টি পঞ্চায়েত/ভিলেজ কমিটির অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য সরকার প্রতিটি পঞ্চায়েতকেই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায় রাজ্য সরকার প্রতিটি পঞ্চায়েতকেই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। পঞ্চায়েত স্তর থেকেই উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হোক সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই বর্তমান সরকার শুধুমাত্র কাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পরিকাঠামোগত উন্নয়নেই বেশী বিশ্বাস করে। আজ সচিবালয়ের ভিডিও কনফারেন্স হলে ১৫টি পঞ্চায়েতের নতুন ভবন এবং ১০৮টি পঞ্চায়েত / ভিলেজ কমিটির অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান অনুষ্ঠানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা একথা বলেন। উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেববর্মা আজ গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কাজ সম্বলিত রিপোর্ট কার্ডও প্রকাশ করেন।
ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামস্তরে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার মহাকরণে বসে গ্রামের উন্নয়নে বিশ্বাসী নয়। সরকার চায় গ্রামস্তর থেকেই যেন প্রয়োজন অনুসারে পরিকল্পনা রূপায়িত হয়। আর এরজন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ এলাকার জনগণের বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানে পঞ্চায়েত ভবনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু বিগত দিনে দেখা গেছে পঞ্চায়েত ভবনগুলিকে রাজনীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত ভবনগুলোকে উন্নতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। রাজ্য সরকার চায় গ্রামের মানুষ নিজেদের গ্রামের উন্নতির সাথে যুক্ত হোক। আর সরকার ও জনগণ কাঁধে কাধ মিলিয়ে কাজ করলেই রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব। উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারকেই মানুষের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবেই মানুষ ও সরকারের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক তৈরী করা সম্ভব হবে। রাজা সরকার শুধু ভবন নির্মাণ নয়, ভবনগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবা সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদানেও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মার্গ দর্শনেই রাজ্য সরকার গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছে। এই লক্ষ্যেই প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের এডিসি এলাকায়ও বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। কারণ এডিসি’কে বাদ দিয়ে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের বিশেষ সচিব সন্দীপ আর রাঠোর বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান প্রকল্পে ২০২০-২১ সালে ১৫টি এবং ২০২১-২২ সালে ২৯টি নতুন পঞ্চায়েত ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল। এরমধ্যে আজ ১৫টি ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে এবং বাকীগুলির কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। আজ যে ১৫টি ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে সেগুলি হল, গঙ্গানগর ব্লকের কর্মপাড়া ভিসি এবং সিদ্ধপাড়া ভিসি, রইস্যাবাড়ি ব্লকের পূর্ব পটাছড়া ভিসি, ছাওমনু ব্লকের ইস্ট গোবিন্দ বাড়ি ভিসি, তুলাশিখর ব্লকের ইস্ট বদলাবাড়ি ভিসি, হেজামারা ব্লকের মেঘলিবন্ধ ভিসি, কাঁঠালিয়া ব্লকের রবীন্দ্রনগর জিপি, জম্পুইজলা ব্লকের অমরেন্দ্রনগর ভিসি এবং পেকুয়ারজলা ভিসি, মাতাবাড়ি ব্লকের চন্দ্রপুর কলোনি জিপি, মাতাবাড়ি জিপি এবং প্যারাতিয়া ভিসি, মুঙ্গিয়াকামী ব্লকের মানিক দেববর্মা ভিসি, তেলিয়ামুড়া রকের সাউথ গোকুলনগর জিপি এবং অম্পি ব্লকের নর্থ তৈদু ভিসি। প্রতিটি ভবন নির্মাণে বায় হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের শেয়ার হচ্ছে ১৮ লক্ষ টাকা এবং রাজ্য সরকারের শেয়ার ২ লক্ষ টাকা। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা দেবানন্দ রিয়াং, এম ডি সি ভূমিকানন্দ রিয়াৎ, বি এস এন এলের জেনারেল ম্যানেজার মুকেশ কুমার গুপ্তা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *