শিক্ষা রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। রাজ্যের সমস্ত জনপদে গুণগত শিক্ষা সম্প্রসারণে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আজ আগরতলার অরুন্ধতীনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় (বিদ্যাজ্যোতি)-এর নতুন ভবন ও অতিরিক্ত ক্লাসরুম নির্মাণের শিলান্যাস করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ে যথাযথ পরিকাঠামোর উন্নয়ন না হলে শিক্ষা প্রদানকারীদের পাশাপাশি শিক্ষাগ্রহণকারী উভয়েরই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে বিদ্যালয়ে সঠিক পরিকাঠামো থাকলে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সবার মতামত নিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি দেশবাসীর জন্য প্রস্তুত করেছে যা আগামীদিনে সুদূরপ্রসারী হবে। তিনি বলেন, আগামীদিনে যখন এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনাগুলি গড়ে উঠবে তখন সারা পৃথিবী ও ভারতবর্ষ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষক শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তাই শিক্ষক শিক্ষিকাদের গতানুগতিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি নিত্যনতুন বিষয় যেগুলি আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে জড়িত সেইসব বিষয়ে প্রস্তুত হয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদানের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উপর শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শিক্ষক শিক্ষিকাদের শিক্ষা এবং উপদেশ শিক্ষার্থীদের মনে গভীর রেখাপাত করে, যা তাদের আগামীদিনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে সুগম করে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, পড়াশুনার পাশাপাশি তারা যেন খেলাধুলা করে। কারণ খেলাধুলা শরীর, মন ও মস্তিষ্কের চেতনা এবং সক্ষমতা বাড়ায়।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, কর্পোরেটর অলক রায়, সেকেন্ডারি এডুকেশনের ডিরেক্টর এন সি শর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শিক্ষা আধিকারিক রূপন রায় উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অরুন্ধতীনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সীমা রাণী সরকার। উল্লেখ্য, বিদ্যাজ্যোতি এবং সমগ্র শিক্ষা অভিযান প্রকল্পে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ সহ এই বিদ্যালয়ের নতুন বিল্ডিংটি নির্মাণ করা হবে। বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পে আনুমানিক ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা এবং সমগ্র শিক্ষা অভিযান প্রকল্পে আনুমানিক ১ কোটি ৮৭ লক্ষ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা বাউন্ডারি ওয়াল সহ এই বিদ্যালয়ের বিল্ডিং নির্মাণে ব্যয় করা হবে। গ্রামোন্নয়ন দপ্তর এই বিল্ডিং নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে।
