🚨🧧বায়োভিলেজ ২০ বিষয়ক পুস্তিকার প্রকাশ করেন উপমুখ্যমন্ত্রী

বায়োভিলেজ-২০ প্রকল্প রাজ্যের নিজস্ব উদ্ভাবিত একটি সফল প্ৰকল্প বায়োভিলেজ-২.০ প্রকল্প রাজ্যের নিজস্ব উদ্ভাবিত একটি সফল প্রকল্প। এই প্রকল্প রাজো সফলভাবে রূপায়িত হচ্ছে। আজ বায়োটেকনোলজি দপ্তরের বায়োভিলেজ – ২.০ প্রকল্প বিষয়ক একটি পুস্তিকার আবরণ উন্মোচন করে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা একথা বলেন। আজ দুপুরে সচিবালয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী তিনটি পুস্তিকার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। এরমধ্যে রয়েছে স্কুলস্তরে চালু ডিএনএ ক্লাব প্রজেক্ট এবং কলেজ বায়োটেক ক্লাবের অগ্রগতি বিষয়ক দুটি পুস্তিকাও। তিনটি পুস্তিকা প্রকাশের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন, বায়োভিলেজ-২.০ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন কি বাত অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের এই প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসাও করেন।
উপমুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও জানান, জৈব চাষ, প্রাণীপালন, মৎস্যচাষ, মাশরুম চাষ ছাড়াও বায়োভিলেজে সৌরশক্তির ব্যবহারে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। রাজ্যের ১২টি গ্রামকে পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে চিহ্নিত করে বায়োভিলেজের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই ক্লাইমেট গ্রুপ নামক আন্তর্জাতিক একটি সংস্থাও এই প্রকল্পটিকে সার্বিক গুরুত্ব দিয়েছে। সারা বিশ্বেই এই প্রকল্প চালু করা যেতে পারে বলে ঐ সংস্থাটি অভিমত ব্যক্ত করেছে। উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জনজাতি, সংখ্যালঘু এবং তপশিলি জাতি অধ্যুষিত গ্রামে বায়োভিলেজ প্রকল্পটি রূপায়িত হচ্ছে। একে আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। রাজ্য সরকার একেবারে নীচুতলা থেকে পরিকল্পনা রূপায়ণে বিশ্বাসী। তাই সবকা সাথ, সবকা বিকাশের ধারায় সকল জাতিগোষ্ঠীকে উন্নয়নে সামিল করছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী স্কুল ও কলেজস্তরে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসারে ডিএনএ ক্লাব ও কলেজ বায়োটেক ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। ডিএনএ ক্লাব প্রজেক্টটি বাস্তবায়নের কাজ করছে বায়োটেকনোলজি দপ্তরের অধীন ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিল। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান চেতনাকে সমৃদ্ধ করা এবং জৈব প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা হাতে কলমে করা। এই প্রকল্পের আওতাধীন স্কুলগুলিকে ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যেমন কম্পিউটার, কেমিক্যাল রিয়েজেন্ট ও গ্লাসওয়ার, মাইক্রোস্কোপ, কেমিক্যাল ব্যালান্স, হার্বেরিয়াম ক্যাবিনেট ও ল্যাব মডেল ইত্যাদি ছাড়াও রক্তের নমুনা পরীক্ষা, মুত্রের শর্করা পরীক্ষা, পেপার রিসাইক্লিং, লেবু থেকে তড়িৎ উৎপাদন, মাশরুম চাষ ও ঔষুধি বাগান তৈরির মতো ২০টি কাজ হাতেকলমে করার ব্যবস্থাপনা রয়েছে। এ পর্যন্ত রাজ্যের মোট ৮টি জেলার ৮২টি স্কুলে ডিএনএ ক্লাব প্রজেক্ট রয়েছে। তারমধ্যে ২০২২-২৩-এ ৩০টি স্কুলকে এর আওতায় আনা হয়েছে এবং 2023-২৪ অর্থবর্ষে আরও ৪০টি স্কুলকে ডিএনএ ক্লাবের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলেজ বায়োটেক ক্লাবগুলি বায়োটেকনোলজি দপ্তরের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় কাজ করছে। এই প্রকল্পগুলি ভবিষ্যতে বিজ্ঞান গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে। ইতিমধ্যেই কলাপাতা ব্যবহার করে মাশরুম চাষ, সুগন্ধি জাতের ধানের গুণমান বৃদ্ধি, ভার্মি কম্পোস্টের গুণমান বৃদ্ধি, জৈব রোগ নাশক বিষয়ক কয়েকটি উদ্ভাবনী কাজ যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশালগড়, কৈলাসহর, মোহনপুর ও বিলোনীয়ার মহাবিদ্যালয়গুলি। এখন পর্যন্ত ১০টি কলেজকে কলেজ বায়োটেক ক্লাব প্রজেক্টের আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আরও পাঁচটি কলেজকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের প্রধান সচিব কে এস শেঠ এবং বায়োটেকনোলজি দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *