বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১নং প্রেক্ষাগৃহে ৪৫তম রাজ্যভিত্তিক ককবরক সাল- ২০২৩ উদযাপন করা হয়। ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তর এবং উপজাতি গবেষণা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চারা গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে এই রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষা দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে শিক্ষা দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী বলেন, মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের সমান। তিনি বলেন, ভাষা একটি মাধ্যম। ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ পায়। ককবরক ভাষায় গান, নাটক, কবিতা ও প্রবন্ধ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। সম্মানিত অতিথির ভাষণে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায় বলেন, রাজ্যের এক বৃহৎ অংশের মানুষ ককবরক ভাষায় কথা বলেন। বিশেষ অতিথির ভাষণে উচ্চ ও মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও অধিকর্তা এন সি শর্মা বলেন, মাতৃভাষা ছাড়া একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ভুললে চলবে না। বিশেষ অতিথির ভাষণে উপজাতি গবেষণা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া বলেন, ককবরক ভাষাকে আরও প্রসার ঘটাতে দপ্তর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০১১ সালের সেন্সাস অনুযায়ী রাজ্যে ৮ লক্ষ ৯ হাজার মানুষ ককবরক ভাষায় কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গেইল ইন্ডিয়া লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বজিৎ দেববর্মা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা দশরথ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে ককবরক লেখক ডা. অতুল দেববর্মার প্রণিত ‘শ্রী রাজমালা’ ককবরক বইয়ের আবরণ উন্মোচন করেন শিক্ষা দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী। ককবরক লেখক সুধন্বা ত্রিপুরা প্রণিত ককবরক বই ‘তকচিঙ্গ রজনী হা’ এর আবরণ উন্মোচন করেন সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায়। ‘ইয়াকপাই ভল’ শীর্ষক স্মরণিকার আবরণ উন্মোচন করেন গেইল ইন্ডিয়া লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বজিৎ দেববর্মা। ককবরক সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘খুমপুই’ এর আবরণ উন্মোচন করেন উচ্চ ও মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও অধিকর্তা এনসি শর্মা। অনুষ্ঠানে শিল্পীগণ লেবাং বুমানি, মামিতা, মোসোক সোলমানি ইত্যাদি সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা উন্নয়ন দপ্তরের উপঅধিকর্তা সব্যসাচী সিনহা। মূল অনুষ্ঠানের আগে সকালে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় এক র্যালি। এই বর্নাঢ্য র্যালিতে বহু বিশিষ্টজন ছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সামাজিক সংস্থা ও এনজিও-র প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। এই র্যালি রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে দুর্গাবাড়ি- তুলসীবতী স্কুল -জ্যাকশন গেইট –ওরিয়েন্ট চৌমুহনী- আরএমএস চৌমুহনী-বিদূরকর্তা চৌমুহনী পরিক্রমা শেষে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়।
