🚨🧧মানিক সাহার নেতৃত্বে আবারো বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে: রাজনাথ সিং

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরা বিকাশের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হচ্ছে। আগে আগরতলার রাস্তাঘাট নোংরা আবর্জনায় মিশে থাকতো। আর এখন সবই ঝকঝকে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমানে ত্রিপুরার আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা সঠিক না থাকলে কোন রাজ্যের বিকাশ সম্ভব নয়। আগে ত্রিপুরায় অপহরণের ঘটনা, হত্যার ঘটনা লেগেই ছিল। কোন সময় কাকে অপহরণ করা হবে বা কাকে হত্যা করা হবে সেই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারতেন না। সেই অবস্থা থেকে ত্রিপুরার মানুষকে মুক্তি দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার। কাজেই আসন্ন নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে এগিয়ে আসুন সকলেই। মঙ্গলবার রাজ্য সফরে এসে আগরতলার বাধারঘাট নির্বাচনী কেন্দ্রের এসডি মিশন মাঠে আয়োজিত বিজয় সংকল্প জন সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এভাবেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
         এদিন ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত বিজয় সংকল্প জন সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। নিজের বক্তব্যের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন তিনি। মঞ্চে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ভিভিআইপি মাইক্রোফোন থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী যে মাইক্রোফোন দিয়ে জনতাকে সম্বোধন করেন সেটা দিয়েই আলোচনা শুরু করেন তিনি। এবং বলেন মুখ্যমন্ত্রী যেখান দিয়ে কথা বলেছেন সেটা দিয়েই বলা উচিত। ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম বরিষ্ঠ নেতা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তাঁর এই বিনয়ী মনোভাব নজর এড়ায় নি বিশাল জন সমাবেশে উপস্থিত কারোর। বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত অতিথিদের সম্বোধন করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহাকে একজন কর্মঠ, সৎ, নিষ্ঠাবান এবং সহজ সরল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। সৎ ও নিষ্ঠাবান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে আবারো ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও মত প্রকাশ করেন রাজনাথ সিং।
         জন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আসামের মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা, বাধারঘাটের বিদায়ী বিধায়ক মিমি মজুমদার, এই কেন্দ্রের বর্তমান প্রার্থী মীনা রাণী সরকার, পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, ভারতীয় জনতা পার্টির মন্ডল সভাপতি কেশব নন্দন দত্ত, অসীম ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে ত্রিপুরার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই রাজ্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধ্যান ধারণা রয়েছে। একটা সময় ত্রিপুরাতে উগ্রবাদীদের দৌরাত্ম্য ছিল। এখন আর নেই। ভারতীয় জনতা পার্টি এই সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিকাশে বিশেষ নজর দিয়েছে। আগামীতে ফের এই রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঠিক দিশায় দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। এখন দুর্বল ভারত নয়, শক্তিশালী ভারত সারা বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখন ভারত কি বলে সেটা জানার জন্য সারা দুনিয়া নজর দিয়ে থাকে। আজ ভারত যে কথা বলে সেটা পুরো দুনিয়া শুনে।
     কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি এমন একটা পার্টি যেটা মানুষের সার্বিক বিকাশ ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ ও দেশের মানুষের ভালো করার চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করে এই পার্টি। করোনা মহামারির সময়েও ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশকে দিশা দেখিয়েছে। বিনামূল্যে রেশন সামগ্রী বন্টন করেছে মানুষের কাছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। যে কারণে বিশ্ব ব্যাঙ্কও সেই সময় ভারতের প্রশংসা করেছে। সেই সঙ্গে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুতের সমালোচনা করেন রাজনাথ সিং। এই প্রসঙ্গে প্রদ্যুত জনজাতি অংশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কারণ জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টির বিকল্প নেই। এবারের বাজেটেও জনজাতি উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৮৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
     সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা সিপিএম কংগ্রেসের অশুভ জোট নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, খুন সন্ত্রাস আর উশৃঙ্খলতার আরেক নাম ছিল এই দুই পার্টি। কমিউনিস্ট জমানায় বহু কংগ্রেস কর্মীকে খুন করা হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য, ঘরবাড়ি হারিয়েছে অনেক কংগ্রেস কর্মী। আর সেই কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গেই জোট করেছে কংগ্রেস। এখন সিপিএম অফিস থেকে ঝান্ডা পতাকা নিয়ে বের হয় কংগ্রেস। যা এক অদ্ভুত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে রাজ্যে। আসন্ন নির্বাচনে মানুষই এর যোগ্য জবাব দেবে। মানুষই ভারতীয় জনতা পার্টিকে ভোট দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পুনরায় ক্ষমতায় আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *