ত্রিপুরায় বিনিয়োগের প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ত্রিপুরায় উৎপাদিত বাঁশ এবং প্রাকৃতিক সম্ভার নিয়ে শিল্প স্থাপনার অপার সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে জি – ২০ সামিটে আসা বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মূলত, হাসপাতাল স্থাপন, ফুড প্রসেসিং সেন্টার, পর্যটন, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস ইনস্টিটিউট, ব্যাম্বো ইন্ডাস্ট্রি, চা, রাবার শিল্প, হোটেল ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এরমধ্যে দু’একজন বিনিয়োগকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রকল্প অনুসারে আর্থিক বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে তাদের রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জমি প্রদানের উদ্যোগ নেবে রাজ্য সরকার। এছাড়া আগামীদিনে বাঁশ থেকে গ্রীন হাইড্রোজেন উৎপাদন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাজধানী সংলগ্ন হাঁপানিয়ায় জি -২০ বিজ্ঞান সামিটে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার থেকে হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুদিন ব্যাপী জি- ২০ বিজ্ঞান সামিট। এতে জি-২০ ভুক্ত ১৯টি দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত সদস্য সহ প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি যোগদান করেন। আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের ইনডোর হলে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। ত্রিপুরার কৃষ্টি সংস্কৃতির মিশেলে আয়োজিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রতিনিধিগণ। এদিন সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। পরে সেখানেই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ সাহা বলেন, ভারতের সভাপতিত্বে এই জি -;২০ সামিটের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সামিটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হবে। রাজ্যে আগামীদিনে সৌর শক্তি নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে গ্রীন হাইড্রোজেন সম্পর্কিত প্রকল্পের জন্য সম্প্রতি ১০ হাজার কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সৌর শক্তি বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান এখন পর্যন্ত রাজ্যে উৎপাদিত ১০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ১০ মেগাওয়াট সৌর শক্তি সম্পন্ন। এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে বিদ্যুতের সংযোগ নেই এমন জায়গায় ১৮টি মাইক্রো গ্রিড স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। পাইপলাইনে ১৭৪ টি মাইক্রো গ্রিড স্টেশন রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ পরিবারকে বায়োমাস প্রোগ্রামের অধীনে আনা হয়েছে। ৩ হাজার পরিবারকে আগামীদিনে বায়োমাস প্রোগ্রামের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, জি – ২০ সামিটের অন্যতম লক্ষ্য সবুজ ভবিষ্যত গড়ে তোলা। এনিয়ে মত বিনিময় করা।
বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের মাটিতে প্রচুর পরিমানে বাঁশ উৎপাদিত হয়। এই বাঁশ ও বায়োমাসকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞান সম্মতভাবে এগিয়ে যাওয়া যাবে সেটাই এই সামিটের অন্যতম লক্ষ্য। ত্রিপুরা রাজ্যে বাঁশের উৎপাদন দেখে সন্তোষ ব্যক্ত করেছেন বাইরের দেশের প্রতিনিধিগণ। এই বাঁশের হাত ধরেই ত্রিপুরায় অর্থনীতি এগিয়ে যাবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন তাঁরা । মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, তাদের সঙ্গে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, পর্যটন, রাবার, চা শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ভারতের পৌরহিত্যে জি -২০ সম্মেলন শুরু হয়েছে। যা শেষ হবে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর। মোট ৬টি বিষয় নিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের শেষে যৌথ তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে আরো কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই জি -২০’র মাধ্যমে ভারতের সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।
ত্রিপুরায় আয়োজিত এই সম্মেলনে ১৯টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চিন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, সাউথ আফ্রিকা, তুর্কি, ইংল্যান্ড, আমেরিকা সহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশের প্রতিনিধিগণ।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের সচিব অভিষেক চন্দ প্রমুখ। রাজ্যে অবস্থান কালে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের রাজ্যের একাধিক উল্লেখযোগ্য পর্যটন ক্ষেত্র ঘুরে দেখানো হবে। এরমধ্যে রয়েছে – এলবার্ট এক্কা পার্ক, কুমারীটিলা মিউজিক্যাল ফাউন্টেন, অক্সিজেন পার্ক, পূর্বাশা (স্টেট এম্পোরিয়াম), সিপাহীজলা অভয়ারণ্য, নীরমহল।
