নিজের গর্ভধারিনী মায়ের হাতে গুরুতর ভাবে আহত নয় বছরের এক শিশুকন্যা। আমরা সবাই জানি যে পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন হলো মা এবং বাবা। সন্তান যত ভুল করুক না কেন মা সব ভুল ভুলে গিয়ে সন্তানকে বারবার আপন করে নেয়। আমরা এও জানি এই পৃথিবীতে মায়ের কোন তুলনা হয় না। কিন্তু এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটলো যে ঘটনার জেরে মা শব্দটা কলঙ্কিত হতে যাচ্ছে। জানা গেছে গত ২৩ এপ্রিল ফটিকরায় থানার অন্তর্গত তরণী নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরণ দত্তর স্ত্রী দীপ্তি মজুমদার ও তার আগের সংসারের ছেলে গোবিন্দ সরকার তৃতীয় শ্রেণীর নয় বছরের শিশু কন্যাকে অত্যন্ত অমানবিকভাবে মারধর করে এবং হাতা গরম করে ওই নাবালিকা শিশুর পা এবং মুখ পুড়ে দেয়। উল্লেখ্য গোবিন্দ সরকারের ও এটি দ্বিতীয় বিয়ে এবং দীপ্তি সরকারের এটি দ্বিতীয় স্বামী।ঘটনার দিনই ওই নয় বছরের নাবালিকা শিশু কন্যাকে তার বাবা মরণ দত্ত কাঞ্চন বাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে ভর্তি করায়। এই অমানবিক ঘটনার পর গতকাল অর্থাৎ বুধবার শিশুকন্যার বাবা মরণ দত্ত এবং স্থানীয় এলাকাবাসীরা মিলে ফটিকরায় থানায় দীপ্তি মজুমদার এবং সৎ পুত্র গোবিন্দ সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত আকারে মামলা দায়ের করে। ফটিকরায় থানার পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেয়ে একটি মামলা নথিভূক্ত করে যার নম্বর ১৯/২০২৩, ভারতীয় দণ্ডবিধ ৩৪২,৩২৬,৩০৭ ধারায় একটি মামলা নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার ফটিকরায় থানার পুলিশ অভিযুক্ত দীপ্তি মজুমদার এবং গোবিন্দ সরকারকে গ্রেফতার করে। এদিন ধৃত দুই অভিযুক্ত কে ঊনকোটি জেলা ও দায়রা জজের আদালতে প্রেরণ করে। এদিকে আহত নাবালিকা শিশুটির অবস্থা এখনো আশঙ্কা জনক বলে জানা গেছে। নাবালিকা শিশু কন্যাটির পা এবং মুখ সম্পূর্ণভাবে ঝলসে গেছে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে দীপ্তি মজুমদার দুই বিয়ে করেছিল। এলাকা সূত্রে আরো জানা গেছে দীপ্তি মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে ই বাড়িতে নেশার ব্যবসা করে আসছিল। তবে মা এবং ছেলের এই ধরনের জঘন্যতম ঘটনায় মহিলার স্বামী মরণ দত্ত সহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা ধৃত মা এবং ছেলের কঠুর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। নয় বছরের শিশু কন্যার চিকিৎসার জন্য এদিকে বাবা মরণ দত্ত রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় হল সরকার এবং রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন শিশুটির চিকিৎসার জন্য এবং মা এবং ছেলের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার জন্য কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
