রাজ্যের একমাত্র অ্যাসপিরেশনাল জেলা ধলাইতে পিপিপি মডেলে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার জন্য আজ একটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রজ্ঞাভবনে আজ রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে ৮টি বিনিয়োগকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে মউ স্বাক্ষরিত হয়। ৮টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৩১২ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার মউ স্বাক্ষরিত হয়। আজ আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলি কুমারঘাটে, আর কে নগরে, সারুমে ও ধলাই জেলায় বিনিয়োগে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যাসপিরেশনাল জেলা ধলাইতে একটি পিপিপি মডেলে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার জন্য ডেটন ন্যাচারাল রিসোর্স প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে প্রায় ২৪৭ কোটি টাকার মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজকের এই বৈঠকে রাজ্য, বহিরাজ্য
এবং বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৪১টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যোগদান করে। তিনি জানান,
আরও বেশি পরিমাণে বিনিয়োগকারীরা যাতে এই বৈঠকে যোগদান করার আগ্রহ প্রকাশ করে
এরজন্য রাজ্য সরকার থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্টেট ক্যাপিটেল ইনভেস্টমেন্ট
সাবসিডি থেকে শুরু করে শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে ভর্তুকি, বিদ্যুৎ মাশুলে ভর্তুকি, কর্মবিনিয়োগে
ভর্তুকি ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে উদ্যোগপতিদের রাজ্যে বিনিয়োগে
আকৃষ্ট করার জন্য। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যেকোনও শিল্প স্থাপনের জন্য চাই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বর্তমান সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে চলছে। রাজ্য এখন জাতীয় সড়ক, রেলওয়ে, জলপথ, ইন্টারনেট সবকিছুতেই এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরাতে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পর্যটন নির্ভর শিল্প গড়ার বিরাট সুযোগ রয়েছে। আগামীদিনে ত্রিপুরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হয়ে উঠবে। এই সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের ফলে ভবিষ্যতে ত্রিপুরার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান নবাদল বণিক, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, ডোনার সচিব লোকরঞ্জন, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব অভিষেক চন্দ্রা উপস্থিত ছিলেন।
