🧧🚨জামাইষষ্ঠীতে জামাই রাজা ইলিশ খাচ্ছেন সার্ডিন নয়তো? অভিজিৎ ভট্টাচার্য

বৃহস্পতিবার জামাইষষ্ঠী। জামাইদের বিশেষ খাতিরযত্নের দিন। ইতিমধ্যেই জামাইদের জন্য পোশাক-আশাক কেনা হয়ে গেছে শ্বশুর-শাশুড়িদের। এখন চিন্তা জামাইদের খাবার পাতে কী দিয়ে আপ্যায়ণ করা যায় তা নিয়ে। যদিও দিন পাল্টাচ্ছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জামাইবাবুদের এখন আপ্রায়ন করা হয় বিভিন্ন নামিদামি রেস্টুরেন্টে অথবা বিভিন্ন হোটেলে। কিন্তু কিছু কিছু শাশুড়ি এখনো আছে যারা বছরে এই একটা দিন জামাইবাবুকে বিভিন্ন পদে রান্না করে বাড়িতে বসে খাওয়াতেই স্বাচ্ছন্দ এবং আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু এ বছর যা গরম এই গরমে মেনুতে কি থাকবে তা নিয়ে চিন্তিত শাশুড়ি মারা। যদি না জামাইবাবুকে ভালো খাওয়াতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে শরীর খারাপ খারাপ করে ফেলে জামাইবাবুর। তবে হা বাড়িতে খাওয়াতে গেলে অবশ্যই মেনুতে থাকবে মাছ। মাছের কথা বলতে যার নাম আসে সবার আগে তা হল মাছের রাজা ইলিশ। জামাইবাবাকে খুশি করতে যদি ইলিশের চিন্তা আসে, তবে গাঁটের পয়সা অনেকটাই খরচ করতে হবে। ইলিশের জন্য রাজ্যবাসীকে বাংলাদেশের মুখাপেক্ষীই থাকতে হয়। ইলিশ বাংলাদেশে জাতীয় মাছ। ইলিশ মাছকে সংরক্ষণ করতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ছোট ইলিশ মাছ ধরা বেআইনী ঘোষণা করেছে সেই দেশের সরকার। বছরের কিছুটা সময় ধরতে দেওয়া হয় ইলিশ।সেখানে প্রায় ছয় সাত লাখ লোক জড়িয়ে আছেন ইলিশ ধরা এবং বিক্রির সঙ্গে। বাংলাদেশের ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ থাকার ফলে রাজ্যেও ছোট ইলিশ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ সরকার ১ আগস্ট ২০১২ সালে বিদেশে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।  তথাপি জামাইষষ্ঠীতে বাংলাদেশের মেঘনা, পদ্মা ও যমুনার ইলিশের জোগান ভালই থাকে রাজ্যে। রাজ্যের ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে মজুত করেছেন বেশ ভালই। কিন্তু বাজারে গিয়ে যা অবস্থা দেখা গেল, জামাই বাবাজিদের কপালে নাও ঝুটতে পারে ইলিশ। কথা হচ্ছিল বটতলা বাজারে মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ওদের কথা অনুযায়ী, কাঁচা অর্থাৎ টাটকা মাছ খেতে গেলে দাম তো একটু বেশিই দিতে হবে। কথা হচ্ছিল বটতলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সমর দাসের সঙ্গে, তিনি বলেন এ বছর যে সাইজের মাস এসেছে বাংলাদেশ থেকে তা অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটাই বড়। দু কেজি ওজনের ইলিশ এসেছে তাও টাটকা যার দাম পড়বে ২০০০ টাকা কিলো, পাশাপাশি এক কেজির ভেতরের গুলির দাম পড়বে দেড় হাজার টাকার মত। ১ কেজির নিচের গুলি পড়বে 900 টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। তবে এখন হয়েছে আরেক হ্যাপা। এক ধরনের ব্যবসায়ী ইলিশ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন সামদ্রিক সার্ডিন মাছকে। ইলিশ আর সার্ডিন মাছের মধ্যে অনেকটাই সাদৃশ্য আছে। তবে খুব বড় আকারের সারাদিন বাজারে দেখা যায় না বললেই চলে। হয়তো শশুর মশাই জামাই বাবাজির জন্য ১,০০০ টাকা দিয়ে ইলিশ কিনে নিয়ে গেলেন, কিন্তু  গিয়ে দেখলেন ভুলে নিয়ে গেছেন সার্ডিন! এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কী করে চিনবেন ইলিশ? ইলিশের দেহ, পেট ও পিঠের দিকে সমান উঁচু হলেও সার্ডিনের পিঠের চেয়ে পেট উঁচু। সার্ডিনের মাথা আকারে ছোট, সামনের দিকটা কিছুটা ভোঁতা। আর ইলিশের মাথা লম্বাটে। ইলিশ বলে অন্য যে সব মাছ বিক্রি হচ্ছে তাদের চোখ প্রকৃত ইলিশের চেয়ে বড়। আসল ইলিশের পিঠ কিন্তু নীলাভ সবুজ। সার্ডিনের পিঠের পাখনার গোড়ায় কালো ফোঁটা থাকে। আর ইলিশের কালো ফোঁটা থাকে কানকোর ওপর। এ সব দেখে কিনলে ঠকার সম্ভাবনা কম।  এখন দেখার কোন জামাইদের পাতে পড়ে ইলিশ এবং কারা থাকেন বঞ্চিত। অবশ্য, জামাই বাবাজীবনদের ট্যাঁকও খসবে। শ্বশুরবাড়িতে দই, মিষ্টি নিতে হবে না? সঙ্গে শাশুড়ির জন্য একখানা পছন্দসই  শাড়ি। পারলে শ্বশুর মশাইয়ের হাতেও নতুন বস্ত্র তুলে দিতে মানা নেই। হাতে মালকড়ি থাক আর না-থাক জামাইষষ্ঠী কিন্তু বছরে একবারই! এবং ষষ্ঠী বলে কথা। জামাই রাজা জিন্দাবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *