🧧🚨প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের সুযোগ প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে : অর্থমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের সুযোগ রাজ্যের প্রতিটি জনপদের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এসমস্ত প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কল্যাণে গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে শ্রমজীবি, কৃষক ও গরীব অংশের মানুষের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে এই প্রকল্পগুলি চালু করা হয়েছে। আজ আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প, ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প ও নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানী নিয়ে এক সচেতনতা অভিযান শিবিরে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় একথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই শিবিরের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়েপড়া অংশের মানুষের কাছে এ সমস্ত প্রকল্পের সুযোগ সুবিধার কথা পৌঁছে দেওয়া। ডাইরেক্টরেট অব ইনস্টিটিউশনাল ফিনান্স-এর উদ্যোগে এই সচেতনতা অভিযান শিবিরের আয়োজন করা হয়।
শিবিরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনসাধারণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান সহ তাদের আর্থসামাজিক মান উন্নয়ন করা। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন জনগণকে বিশেষ করে গ্রামীন এলাকার মানুষ, শ্রমিক ও কৃষকগণকে প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প সম্বন্ধে অবহিত করা। তারা এই প্রকল্পগুলির সুবিধার কথা জানলে অর্থ সঞ্চয়ে নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানীর দিকে ঝুঁকবেন না। সঠিক স্থানে অর্থ সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ হবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ে বেশী অর্থ পাওয়ার লোভে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা, অটল পেনশন যোজনার মত পি এফ ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলি গরীব অংশের মানুষের কাছে নতুন দিশা এনে দিয়েছে। বিশেষ করে এই প্রকল্পগুলিতে সমাজের অন্তিম ব্যক্তি, গরীব, শ্রমিক, দিনমজুররা উপকৃত হচ্ছেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে অধিক অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সমগ্র রাজ্যে মোট ৩ হাজার জন স্বল্প সঞ্চয় এজেন্ট রয়েছেন। বিভিন্ন মহকুমা ও জেলাস্তরে আরও এজেন্ট নিয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যেকেই যাতে প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাগশিল্প প্রকল্প ও স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি হরিদুলাল আচার্য উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত ও ব্লকস্তরে এ ধরণের শিবির করার উদ্যোগ নিতে হবে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলাশাসক রজত পন্থ বলেন, জনগণের জমাকৃত অর্থরাশি যাতে নিরাপদ থাকে সেদিকে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ক্রাইম ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত এস পি। স্বাগত ভাষণ রাখেন ইনস্টিটিউশনাল ফিনান্স দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও অধিকর্তা রাখি বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে কমিশনার অব ট্যাক্সেস এবং ইনস্টিটিউশনাল ফিনান্স দপ্তরের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার আধিকারিক সহ অন্যান্য ব্যাঙ্কের আধিকারিকগণ টেকনিক্যাল সেশনে অংশ নেন। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, স্বল্প সঞ্চয়ের আধিকারিক ও স্বল্প সঞ্চয় এজেন্টগণ। শিবিরে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা, অটল পেনশন যোজনা, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *