রাজ্যের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার আহ্বানে সাড়া দিয়ে খোয়াই জেলার লালছড়ার বাসিন্দা গরীব মেধাবী ছাত্র অঙ্কিত পালের উচ্চশিক্ষার জন্য পাশে দাঁড়ালো ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোসিয়েশন। প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে অফিসার সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছাত্রটিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অঙ্কিতের হাতে ১ লক্ষ টাকার অর্থরাশি চেকের মাধ্যমে তুলে দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
খোয়াই জেলার লালছড়া এলাকার দুঃস্থ মেধাবী ছাত্র অঙ্কিতের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এলেন শিক্ষানুরাগী মুখ্যমন্ত্রী। অভাব যাতে কোনভাবেই রাজ্যের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হতে না পারে সেই চেষ্টা নিরন্তর চালিয়ে যাচ্ছেন প্রথিতযশা চিকিৎসক মুখ্যমন্ত্রী। তাইতো আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা গরীব মেধাবী ছাত্র অঙ্কিত পালের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন পূরণে ত্রাতা হয়ে এসে আরো একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকার করে মেধাবী ছাত্র অঙ্কিত পাল। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারের ‘সুপার থার্টি’ স্কিমের আওতায় বহিঃরাজ্য থেকে কোচিং নিয়ে আইআইটি বেনারসে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পায় সে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে এই মেধাবী ছাত্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন একপ্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয় অঙ্কিত ও তার মা।
গত সোমবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অঙ্কিত তার মায়ের সাথে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার সাথে সাক্ষাত করে গোটা বিষয়টি জানিয়ে আর্থিক সাহায্যের আর্জি জানায়। এরপরই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অঙ্কিতের উচ্চশিক্ষার জন্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের এই গরীব মেধাবী ছাত্রটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। যথারীতি মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাশে দাঁড়ালো সিভিল সার্ভিস অফিসারদের সংগঠন। এতে অঙ্কিতের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে গেলো।
অর্থরাশি সম্বলিত চেক প্রদান কালে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের সচিব পি কে চক্রবর্তী ও সিভিল সার্ভিস সংগঠনের পক্ষে অসীম সাহা। আর এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোসিয়েশনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এই মেধাবী ছাত্র অঙ্কিতের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে তার পড়াশোনার জন্য সরকার সর্বতোভাবে পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
