বন ও অরণ্য আমাদের সভ্যতাকে বিকশিত করতে সহায়ক ভূমিকা নেয়। তাই বনকে রক্ষা করতে হবে। বন ছাড়া আমরা বাঁচতে পারব না। গাছ ও বনের সাথে মানুষের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আজ উদয়পুরের পেরাতিয়ায় নগর বনের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধুমাত্র বনমহোৎসবের দিন করলেই চলবে না। নিয়ম করে সব সময় তা করতে হবে। সবুজায়নে বন দপ্তরের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সবুজায়নে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পেরাতিয়ায় এই নগর বন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমানোর জন্য সবুজায়নের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বন পরিবেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে। তাছাড়াও বন অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, বনজ সম্পদকে ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্যের বনজ সম্পদকে রক্ষা করার জন্য রাজ্য সরকার বনরক্ষী মোতায়েন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য সরকার ইকো ট্যুরিজমের উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্রীড়া, পর্যটন ক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়নেও রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, মাতাবাড়িকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাথে মানুষের বিনোদনের জন্য পার্ক এবং উদয়পুর রেল স্টেশন থেকে মাতাবাড়ি এবং মহারাণী ব্যারেজ থেকে ছবিমুড়া পর্যন্ত রোপওয়ে নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাতাবাড়িতে একটি পিপিপি মডেলের ইউনিভার্সিটি স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন দপ্তরের প্রধান সচিব কে এস শেঠি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাতাবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সুজন কুমার সেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলার জেলাশাসক গোভেকার ময়ূর রতিলাল প্রমুখ।
