আমবাসা টাউন হলে গতকাল দিব্যাঙ্গজন ও প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে চলন ও সহায়ক সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এক সামাজিক অধিকারিতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। ধলাই জেলা প্রশাসন ও এলিমকো সংস্থা যৌথভাবে এই শিবিরের আয়োজন করে। এই সামাজিক অধিকারিতা শিবিরের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধলাই জিলাপরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি অনাদি সরকার, বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব, বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা, ধলাই জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. সিদ্ধার্থশিব জয়সবাল, ধলাই জেলার পুলিশ সুপার অভিনাশ রাই, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি সুন্দর সিং প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমবাসা পুর পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন গোপাল সূত্রধর। অনুষ্ঠানে জেলার আমবাসা, গঙ্গানগর, সালেমা ও দুর্গা চৌমুহনী রকের ২২০ জন দিব্যাঙ্গজন ও প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে হুইল চেয়ার, ট্রাই সাইকেল, হাটার লাঠি, চশমা, ইত্যাদি চলন ও সহায়ক সামগ্রী দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ৫ জন দিব্যাঙ্গজনের মধ্যে চলন ও সহায়ক সামগ্রী তুলেদেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক সহ অতিথিগণ। শিবিরের উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, দেশের ১১২ টি অ্যাসপিরেশনাল জেলার মধ্যে ধলাই জেলা রয়েছে। এই জেলার সার্বিক বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। জেলার সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। এর ফলে এই জেলা আগের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধলাই জেলায় ১ হাজার ২০০ জন দিব্যাঙ্গজন ও সিনিয়র সিটিজেন চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার সবকটি ব্লকে ধাপে ধাপে ১ হাজার ২০০ জনকে ৪ হাজার ৬৬১ টি চলন ও সহায়ক সামগ্রী প্রদানের কাজ চলছে। এজন্য ৭৯ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা বায় হবে। দেশের ৭৪ টি স্থানে এদিন দিব্যাঙ্গজন ও সিনিয়র সিটিজেনদের মধ্যে চলন ও সহায়ক সামগ্রী প্রদান অনুষ্ঠান এক যুগান্তকারী কাজ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা নতুন করে চালু করা হয়েছে। এরফলে কারিগররা উপকৃত হবেন। গত এক মাস আগে রাজ্যে ১০০ জন দিব্যাঙ্গনকে ব্যাটারী চালিত ট্রাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। আরও ১০০ টি ব্যাটারীচালিত ট্রাইসাইকেল দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। দিব্যাস্বজনদের চলন ও সহায়ক সামগ্রী দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন রকে শিবির করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যান্যদের সাথে দিব্যাঙ্গজনেরাও এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক মনোজ কান্তি দেখ ও বিষয়ক শম্ভুলাল চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ধলাই জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. সিদ্ধার্থশির জয়সবাল। উল্লেখ্য, সমাজিক অধিকারিতা শিবিরের অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রীসহ অতিথিগণ প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ধলাই জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক ও সমাহর্তা অজিত গুরুদাস, আমবাসা মহকুমার মহকুমাশাসক সঞ্জিত দেববর্ম সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ধলাই জেলার আধিকারিক শঙ্খশুভ্র সেন প্রমুখ।
