মঙ্গলবার এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৪ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। এদিন তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের ড্রপ গেইট স্থিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা সভাধিপতি হরি দুলাল আচার্য, কর্পুরেটর সম্পা সরকার সহ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা।
ঊনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও সহজপাঠ্য করে তোলেন।বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার ছিলেন তিনি।
তিনি রচনা করেছেন যুগান্তকারী শিশুপাঠ্য বর্ণপরিচয়-সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
অন্যদিকে বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক ও। বিধবা বিবাহ ও স্ত্রী শিক্ষার প্রচলন, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ দূরীকরণে তার অক্লান্ত সংগ্রাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। আজকে উনার জন্মজয়ন্তীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র বলেন, বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারের জন্য বিভিন্ন কাজ করে গেছেন। বিধবা বিবাহ চালু করা স্ত্রী শিক্ষার প্রচলন, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে গেছেন।
পাশাপাশি উনি যেসকল সাহিত্য রচনা করা গেছেন তা আজও প্রাসঙ্গিক। বর্তমান প্রজন্ম তথা ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যাসাগরকে নিয়ে বিশেষ চর্চা করে উনার সম্পর্কে যেন জানার চেষ্টা করেন সেই আহ্বান রাখেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার যে সকল নমস্য ব্যক্তিরা সমাজ সংস্কারে, বা স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্ম বলিদান করে গেছেন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে চলেছে যাতে করে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম যেন তাদের কাহিনী তাদের মার্গ দর্শন, চিন্তা ভাবনা, দিশাকে সামনে রেখে আগামী দিন যেন কাজ করতে পারে বা নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারে। রাজ্য সরকার বিভিন্ন মনিষী বিভিন্ন সমাজ সংস্কারকদের মর্মর মূর্তি স্থাপন করছে রাজ্যব্যাপী পাশাপাশি তাদের জন্ম দিবস ও প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তাদের স্মরণ করে যাচ্ছে। আজকের এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন যাদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
