মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী আগরতলা সংলগ্ন লেম্বুছড়াস্থিত মর্যাদাপূর্ণ কেন্দ্রীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ অব ফিশারিজ এর ‘রজত জয়ন্তী উৎসব’ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে
আয়োজিত এক জমকালো এবং মহতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ইভেন্ট পরিদর্শনের পর মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, জাতীয় অঙ্গনে এই কলেজ অব ফিশারিজ় এর বিভিন্ন কার্যক্রম ও পারফরম্যান্স সম্বন্ধে বিস্তারিতভাবে অবগত হয়ে সত্যিই আমি মুগ্ধ। তিনি এই কলেজ অব ফিশারিজ এর ভাইস চ্যান্সেলর, ডিন এবং এই কলেজের সমস্ত সংশ্লিষ্ট সদস্যদের গৌরবময় ২৫ বছর সফলভাবে পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং আগামী বছরগুলিতে এই কলেজ অব ফিশারিজ এর
দুর্দান্ত সাফল্য কামনা করেন। রজতজয়ন্তী বর্ষের জমকালো উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যে ক্রিয়াকলাপগুলি নির্ধারিত হয়েছে সেগুলোর তিনি সার্বিক সাফল্য কামনা করেন৷ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, আমাদের রাজ্যে এই ক্যাম্পাসে দেশের ১২তম ফিশারিজ কলেজ হিসাবে কলেজ অব ফিশারিজ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি রাজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির মৎস্য উন্নয়নের চাহিদা পূরণে সর্বদা অগ্রণী ছিল। একটি একাডেমিক ইনস্টিটিউট হিসাবে কলেজটি মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান এবং মৎস্য খাতে উন্নয়ন করার জন্য মানবসম্পদ তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে । এই কলেজের শিক্ষার মান উল্লেখ করার মতো। আমাকে বলা হয়েছে যে এই কলেজের তিনজন ছাত্র ২০১৩, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে তিনবার আইসিএআর-জেআরএফ পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। আমি এটা শুনে খুবই আনন্দিত বোধ করছি যে এই কলেজের ৪৫ জনের মতো ছাত্র এই সেক্টরে কাজ করছে। তাদের মধ্যে আইসিএআর বিভিন্ন সেট-আপে মৎস্য ও কৃষি গবেষণা বিজ্ঞানী হিসাবে এবং অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি লাইন বিভাগে বিভিন্ন উচ্চ পদে রয়েছেন। এই অঞ্চলের মৎস্য চাষের উন্নয়নে দরিদ্র চাষীদের জন্য মূল গবেষণা এবং প্রযুক্তি-সহায়ক অনুশীলন তৈরিতে কলেজের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশংসিত। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এই ক্যাম্পাসে চলমান বেশ কয়েকটি প্রকল্প রাজ্যের বেশ কয়েকজন মৎস্য চাষিকে সরাসরি উপকৃত করছে। এই কেন্দ্রীয় কলেজ অব ফিশারিজ এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের ক্ষমতা গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের মাছ চাষি, গ্রামীণ যুবক, উদীয়মান উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের উপর ফোকাস করে। একদিকে ক্যাম্পাসে ভেতরে ও ক্যাম্পাসের বাইরের পাশাপাশি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং মৎস্য ও জলজ প্রাণী চাষের উদীয়মান ক্ষেত্রের ডিজাইনার কোর্স বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের উপকারে আসছে।
যেমনটি আমরা খুব ভালো করেই জানি যে আমাদের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলটি বিভিন্ন সময়ে একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয় যা আমাদের সমান্তরাল উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে তথাপি আমাদের রাজ্য একটি কৃষিপ্রধান রাজ্য হওয়ায়, কৃষি ও মৎস্য চাষের মত সহযোগী ক্ষেত্রগুলি দেশের উন্নত অঞ্চলের ‘খাদ্যের ঝুড়ি’ হিসাবে কাজ করে। যা আমাদের রাজ্যের জন্য খুবই গর্বের বিষয়। পরিবর্তনশীল কৃষি-জলবায়ু ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পরিবেশগত, আর্থ-সামাজিক কারণ বিবেচনা করে, এই অঞ্চলের কৃষকরা ও মৎস্য চাষীরা এই অঞ্চলের চাহিদা পূরণের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। তাই জাতীয় গড়ের তুলনায় মাছের উৎপাদনশীলতা কম থাকে এবং এটি সত্যিই উদ্বেগজনক।
এই সারিতে দাঁড়িয়ে, আমি রাজ্যের মৎস্য চাষীদের অনুরোধ করবো তারা অবশ্যই যেনো মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধা এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উন্নত প্ল্যাটফর্মটির সাথে শেয়ার করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিজ্ঞানী, ছাত্র গবেষকদের মৎস্য চাষীদের সম্মুখে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সেগুলোর সমাধানের জন্য এবং পরবর্তীতে চাহিদা পূরণের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করার জন্য কাজ করতে হবে। তাই বৈজ্ঞানিক ভ্রাতৃত্বের প্রিয় বন্ধুরা, মৎস্য চাষী ভাইদের সুবিধার জন্য কাজ করার এটাই সঠিক সময়। এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি কলেজ কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই । এমন ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি আয়োজকদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু উদ্দীপনা জাগাবে না বরং তাদেরকে ভালো মানুষ ও নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
