🚨🧧এবারের বইমেলার মূল ভাবনা ‘ভৈব্য ভারত’

 

৪২তম আগরতলা বইমেলা পরিচালন কমিটির সভা আজ আগরতলা পুরনিগমের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বইমেলার মূল ভাবনা ‘ভৈব্য ভারত’। প্রতিদিন মেলা দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। ছুটির দিনগুলিতে মেলা রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে।

বইমেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য জানান, এবারের বইমেলার জন্য ১টি আয়োজক ও ১টি পরিচালন কমিটি সহ ৮টি বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এবারের বইমেলাতে স্টল খোলার জন্য এখন পর্যন্ত ১৪১টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে ১৩২টি বইয়ের স্টল এবং ৯টি অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থার স্টলের আবেদনপত্র রয়েছে। স্টল বন্টনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তার কার্যালয়ে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। বইমেলার উদ্বোধনী এবং সমাপ্তি দিনে অনুষ্ঠানের মঞ্চকে যথাক্রমে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামে উৎসর্গ করা হবে। উদ্বোধনী এবং সমাপ্তি দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরমধ্যে মেলার ৮দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জন্য ৪০ মিনিট করে সময় বরাদ্দ থাকবে। তাছাড়া প্রত্যেকদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনজাতিদের জন্য ৩০ মিনিট এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের জন্য ১৫ মিনিট করে সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও অধিকর্তা জানান, বইমেলা উপলক্ষে ৭দিন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনার, ক্যুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতাও এবারের বইমেলা উপলক্ষে আয়োজন করা হবে। এবারের বইমেলায় বেস্ট লিটল ম্যাগাজিন অ্যাওয়ার্ড নামে নতুন পুরস্কার চালু করা হবে। বইমেলা উপলক্ষে যে সকল পুরস্কার দেওয়া হয় সেগুলির জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জমা নেওয়া হবে। এবারেও দপ্তরের পক্ষ থেকে রাধানগর, চন্দ্রপুর, রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে বই পিপাসুদের মেলা প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিনামূল্যে বাসের ব্যবস্থা থাকবে।সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে সভার সভাপতি তথা আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বইমেলা আয়োজনে চিন্তা ভাবনা, ব্যবস্থাপনার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মেলাকে সুন্দর, আকর্ষণীয় এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে যারা এই মেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের বইমেলা এক অন্য মাত্রা পাবে। সভায় মেলা আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. অরুণোদয় সাহা, রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির সহসভাপতি সুব্রত চক্রবর্তী, এসএফএমসিসির চেয়ারম্যান নবেন্দু ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা টাইমস পত্রিকার স্বত্বাধিকারী অভিষিক্তা লোধ, বিশিষ্ট কবি নকুল দাস, অল ত্রিপুরা পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী সহ বিদ্যুৎ, শিক্ষা, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিনিধিগণ। সভায় উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি হরিদুলাল আচার্য, বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত সহ বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার চেয়ারম্যান,

সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *