🚨🧧জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে বাজারে ইলিশ।।

 

 

আজ জামাইষষ্ঠী। জৈষ্ঠ মাসের শুক্র পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হয় জামাইষষ্ঠী। যদিও জামাইকে তুষ্ট করার জন্যই জামাইষষ্ঠীর আয়োজন কিন্তু কথিত রয়েছে, একবার এক গৃহবধূ স্বামীর ঘরে নিজে মাছ চুরি করে খেয়ে দোষ দিয়েছিলেন বিড়ালের উপর। ফলে তাঁর সন্তান হারিয়ে যায়। তাঁর পাপের ফলেই এই ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। তখন সেই মহিলা বনে গিয়ে ষষ্ঠীদেবীর আরাধনা শুরু করেন৷ দেবী তুষ্ট হন৷ ফলে বনেই তিনি নিজের সন্তানকে ফিরে পান। এই জন্যই ষষ্ঠীদেবীর অপর নাম অরণ্যষষ্ঠী। ষষ্ঠী বলতে যেহেতু জামাইকে তুষ্ট করার ব্যাপারটা আছে সেজন্য সেই দিন ভুরিভুজের আয়োজনটা থাকে বিশেষ। এবং ভুরিভোজের যে আইটেমটা দিয়ে জামাইকে সন্তুষ্ট করতে চায় শশুরমশাই তাহল মাছের রাজা ইলিশ।
ইলিশের জন্য রাজ্যবাসীকে বাংলাদেশের মুখাপেক্ষীই থাকতে হয়। বাংলাদেশের প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার লোক জড়িয়ে আছেন ইলিশ মাছ ধরা এবং বিক্রির সঙ্গে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করেছে। ফলে রাজ্যেও ছোট ইলিশের আমদানি প্রায় বন্ধই।তথাপি নববর্ষ, জামাইষষ্ঠী ইত্যাদিতে বাংলাদেশের মেঘনা, পদ্মা ও যমুনার ইলিশের জোগান ভালই থাকে রাজ্যে। রাজ্যের ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই ভাল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছে জামাই ষষ্ঠীর জন্য। কিন্তু বাজারে খোঁজ নিয়ে যা অবস্থা দেখা গেল, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরেই থাকবে হয়ত বা ইলিশ। বটতলা বাজারে কথা হচ্ছিল মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ এসেছে সেরা কাঁচা ইলিশ। কাঁচা বলতে বুঝাতে চাইছেন স্টুডেন্ট নয় তিন চার দিন আগে ধরা পড়া মাছই এসেছে বাজারে। গত পাঁচ বছরে নাকি এরকম বড় এবং ফ্রেশ মাছ রাজ্যে আসেনি। দু কিলোর উপরে ইলিশ। প্রতি কিলো ২৮০০ টাকা দরে আজকে থেকেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে একটি মাছ যে পাঁচ হাজার টাকার উপরে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
১ কিলোর ওপর যেগুলি দাম পড়বে ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা কিলো। ৫০০ থেকে ১ কিলোর নিচে, দাম পড়বে ১০০০ থেকে১২০০ টাকা কিলো। তবে হ্যাঁ ক্রেতাদের কিছুটা সতর্কও থাকতে হবে কারণ কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সার্ডিন মাছ কেও ইলিশ বলে চালিয়ে দেয়। সে দিকে লক্ষ্য রেখে পরখ করেই কিনতে হবে।
বিভিন্নভাবে রান্না হয় ইলিশের। ভাজি আর ভাঁপার তো তুলনাই হয় না। অনেকে ভয়ে ভয়ে থাকেন, ইলিশ খেলে কী থেকে কী হয়! কিন্তু, ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সম্প্রতি দেখা গেছে, ইলিশ মাছ খেলে দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার বদলে কমছে। ইনসুলিন খরচও কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, ইলিশে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। অর্থাৎ যৌবন ধরে রাখার অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভারপুর ইলিশ। এখন দেখার কোন জামাইয়ের পাতে পড়ে ইলিশ কেইবা থাকে বঞ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *