কেন্দ্রীয় সরকারের পঞ্চায়েত মন্ত্রকের আদেনুসারে প্রতি বছর পিপলস প্ল্যান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পঞ্চায়েতের সব স্তরে বার্ষিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়। এরই অঙ্গ হিসেবে অন্যান্য বছরের ন্যায় এই বছরও রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত দপ্তর রাজ্য স্তরে এই ক্যাম্পেইনের সূচনা করার উদ্যোগ নেয় এবং ২১শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার এডি নগর স্থিত পঞ্চায়েত রাজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গ্রাম স্বরাজ ভবনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রোফেসর (ডা.) মানিক সাহার উপস্থিতিতে রাজা স্তরে এই ক্যাম্পেইনের সূচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও সবগুলি জেলার জেলা সভাধিপতি, দপ্তরের সচিব ডা. সন্দীপ আর রাঠোড়, দপ্তরের অধিকর্তা, শ্রী প্রসূন দে, সবগুলি পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক উপদেষ্টা কমিটিগুলির চেয়ারপার্সন, অতিরিক্ত জেলা শাসকগণ, ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারগণ এবং জেলা ও ব্লকের অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স, ই-অফিস বাস্তবায়ন, স্মার্ট পঞ্চায়েত অফিস বিভাগে যেই সমস্ত জেলা, ব্লক এবং পঞ্চায়েতগুলো ভালো কাজ করেছে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। তার পাশাপাশি, চারটি বই আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন মুখ্যমন্ত্রী অরুন্ধুতিনগরস্থিত পঞ্চায়েত রাজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে স্টেট পঞ্চায়েত রিসোর্স সেন্টার হিসেবে ঘোষণা দেন যা একটি অভাবনীয় সাফল্য।
মুখ্যমন্ত্রী উনার ভাষণে রাজ্যের উন্নয়নে পঞ্চায়েতের ভূমিকা সম্পর্কে সকলকে অবগত করান এবং আহব্বান রাখেন যে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য যাতে করে সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের লক্ষ্যমাত্রা গুলি অর্জন করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী বিগত কয়েক বছরে ত্রিপুরার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিভিন্ন সফলতাগুলি তুলে ধরে জেলা সভাধিপতিগণ সহ সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিগণ এবং কর্মচারীদের কাছে আহব্বান রাখেন যে আরও সুচারু ভাবে কাজ করে আগামী ত্রিপুরার পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে সারা ভারতবর্ষের কাছে রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে। তিনি এও আহব্বান রাখেন যে বর্তমানে নতুন পঞ্চায়েত বডি গঠন হয়েছে, সেইক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য এবং জনপ্রতিনিধিরাও যাতে প্রশিক্ষণগুলিতে অংশগ্রহণ করেন সেই ব্যাপারে অবগত করান।
এই অনুষ্ঠানে সারা ত্রিপুরা থেকে জনপ্রতিনিধি এবং সকল স্তরের কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ৭৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
