রাজ্যে নেশা বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

বর্তমান রাজা সরকার গঠিত হওয়ার পর রাজ্যে নেশা বিরোধী অভিযান বৃদ্ধি করার ফলে বিরাট পরিমাণ বেআইনী গাঁজা, ফেন্সিডিল, টেবলেট, হেরোইন ইত্যাদি নেশাদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি, সহযোগী ও নেশাদ্রব্য চালানকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আজ বিধানসভায় বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের আনীত এক দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের উত্তর দিতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশটি ছিল “রাজ্যে ছাত্র-যুবদের মধ্যে নিষিদ্ধ নেশা ব্যবহারের প্রবণতা প্রবল মাত্রায় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে উক্তদের নিষিদ্ধ নেশা। ব্যবহার রোধে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে”।
 
দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা আরও জানান, রাজ্যে নেশা বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার প্রচারের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে নেশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়ে থাকে এবং সেইসঙ্গে অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে। নেশা বিরোধী অভিযানে ২০২০ সালে ২৯১টি মামলা নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার, ২০২১ সালে ৩৫২টি মামলা নথিভুক্ত এবং ৬৯০ জনকে গ্রেপ্তার এবং ২০২২ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ৩৯৯টি মামলা নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি ১৯টি এনডিপিএস কেইস ত্রিপুরা পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমকে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগরতলায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর একটি শাখা স্থাপনে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গত তিন বছরে রাজ্যে ৩ কোটি ৭৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ১১৬টি গাজা গাছের চারা ধ্বংস করা হয়েছে। নেশা সামগ্রী বহনকারী গাড়ি স্ক্যান করার জন্য একটি ফুল স্ক্যানার ক্রয় করার প্রস্তাব বিবেচনাধীন আছে। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬টি স্নাইপার কুকুরকে বর্তমানে নেশা বিরোধী অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই ধরনের আরও কুকুর কেনার ব্যাপারে বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যে যুব সমাজের মধ্যে নেশা বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়াস কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্কুল ও কলেজ স্তরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিগত দুই বছরে নেশা দ্রব্যের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ১১৩৫টি সিভিক অ্যাকশন প্রোগ্রাম সংগঠিত করা হয়েছে। নেশায় আসক্তদের যাতে নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তারজন্য নিয়মিতভাবে তাদের অভিভাবকদের উৎসাহিত করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বাজেয়াপ্ত নেশা দ্রব্যগুলিকে নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা বলেন, রাজ্যের মধ্য দিয়ে নেশা জাতীয় সামগ্রীর আদান প্রদান বন্ধ করার জন্য এনসিবি ও ডিআরআই’র সঙ্গে রাজ্যের আরক্ষা বাহিনী যৌথভাবে বিভিন্ন সফল অভিযান সংগঠিত করছে। এইক্ষেত্রে আধিকারিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে উপযুক্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের উপর আলোচনাকালে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ রাজ্যে নেশা বিরোধী অভিযানকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, বর্তমান সরকার সদর্থক মনোভাব নিয়ে সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এই অভিযানকে সফল করার চেষ্টা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *