চিকিৎসকের গাফিলতিতে প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ। অপরদিকে গর্ভবতী মহিলা নাবালিকা হওয়ায় শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় মৃত্যু হয়েছে শিশুর বলে অভিমত চিকিৎসকের। ঘটনা কে কেন্দ্র করে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে ভাংচুর চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজন। ঘটনা মহকুমা হাসপাতালে।
মৃত নবজাতকের পরিবারের লোকেদের অভিযোগ শনিবার সন্ধ্যায় বিশালগড় 2 নং গেট এলাকার মিঠুন দাসের স্ত্রী রবিনা দাসের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে তাকে নিয়ে আসা হয় বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে। তখন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিনা দাসকে তড়িঘড়ি ডেলিভারি ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় রবিনা দাস। তারপর নবজাতক শিশু কোন সাড়া না দেওয়ায় চিকিৎসক শিশুকে অক্সিজেন দেয় এবং তার শরীরে তাপ দেয়। দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন চেষ্টার পর নবজাতককে হাঁপানিয়া হাসপাতালে রেফার করে দেয়। কিন্তু হাঁপানিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক জানায় দীর্ঘক্ষণ আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়ে গেছে, আরও আগে হাঁপানিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো। এক কথায় পরিবারের লোকেদের অভিযোগ বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। এতে পরিবারের লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
অপরদিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌম্য কান্তি সিনহার অভিযোগ গর্ভবতী মহিলা নাবালিকা হওয়ায় সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দেয়। গর্ভবতী মায়ের গর্ভের জল শুকিয়ে যাওয়ায় সন্তান প্রসবের সময় শিশুর মাথায় এবং শরীরের উপর প্রচন্ড চাপ পড়ে। এতে শিশুটি জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হলেও সে জন্মগ্রহণের পর কোন সারা দেয়নি। চিকিৎসকের তরফে তাকে বাঁচানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে। পরে তার শারীরিক অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে তড়িঘড়ি হাপানিয়া হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাঁপানিয়া হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু হয় শিশুটির।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় হাসপাতাল চত্বরে। নবজাতকের পরিবারে তরফে হাসপাতালে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে। পরে হাসপাতালে ছুটে আসে বিশালগড় থানার ওসি বাদল চন্দ্র সাহা সহ বিশাল পুলিশ ও টি.এস.আর বাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় মোট পাঁচজনকে। তার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা গ্রহণ করেছে। নবজাতকের মৃতদেহ রবিবার ময়নাতদন্তের পর তার পরিবারের লোকজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
