স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই হলো সুশাসনের অন্যতম শর্ত। স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা সরকারই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আশা ভরসা যোগাতে পারে। আমাদের সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে এই লক্ষ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করছে। আজ গণ্ডাতুইসাতে ১ হাজার মেট্রিকটন ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম এবং ফার্মার্স নলেজ সেন্টারের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, ধলাই জেলার জেলাশাসক ড. সিদ্ধার্থ শিব জয়সবাল, পুলিশ সুপার আর যাদব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং। পরে মুখ্যমন্ত্রী এবং অতিথিগণ গন্ডাতুইসা থানা পরিদর্শন করেন।
খাদ্য গুদাম এবং কৃষক জ্ঞান কেন্দ্রের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কৃষকদের আর্থ সামাজিক মান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী পি এম কিষাণ সম্মান নিধি, ফসল বীমা, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সয়েল হেলথ কার্ড প্রভৃতি প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য এখানে কৃষক জ্ঞান কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গন্ডাতুইসা মহকুমার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলি রূপায়ণের কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রূপায়ণের কথা বলতে গিয়ে অতি সম্প্রতি খোয়াইয়ে মহিলা থানার উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নারী এবং শিশুদের সুরক্ষায় মহিলা থানা চালু করা হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়নে সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরক্ষা দপ্তরে ১১০০ পুলিশ কনস্টেবল এবং ৬ হাজারের বেশী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে প্রতি ঘরে সুশাসন কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে। কর্মসূচি রূপায়ণ আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ধলাই জেলার ৪টি ব্লককে এসপিরেশন্যাল ব্লক হিসেবে ঘোষণা করে এই এলাকার মানুষের উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমবাসাতে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া রাজ্যে ডেন্টাল কলেজও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়া সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতিতে জাতীয় সড়কগুলির উন্নয়নে অতি সম্প্রতি ১০২২২ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী এমবিবি বিমানবন্দরের উন্নয়ন এবং আগরতলা চট্টগ্রাম বিমান পরিষেবা চালু করার কথাও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা শরদিন্দু দাস সহ পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
