মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নতির ফলে বহিঃরাজো রোগী রেফার এখন অনেক কমেছে। রাজ্যের মানুষ যাতে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণ করতে পারে সেজন্য আগরতলা মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে ৯টি সুপার স্পেশালিটি বিভাগ শীঘ্রই চালু করা হবে। আজ করবুক নারাইহা পাড়ায় নবনির্মিত ৫০ শয্য বিশিষ্ট রামকুমার নারাইহা মহকুমা হাসপাতাল ও নবনির্মিত পাঞ্জিহাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় ভবনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা একথা বলেন। করবুক পাঞ্জিাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগে গরিব মানুষ বহিঃরাজে চিকিৎসা করাতে গিয়ে যেখানে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যেতন। এখন সরকারের সদর্থক ভূমিকার ফলে রাজ্যেই মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ গ্রহণ করতে পারছেন। তিনি বলেন, রাজো এইমস ধাঁচে একটি মেডিক্যাল কলেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়াও হেলথ এন্ড ওয়েলনেস সেন্টারও করা হচ্ছে রোগীদের কল্যানে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাই সরকার বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প, মাতৃ ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের উপরও গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন স্কুলকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিন্তাধারায় দেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং সরকা বিশ্বাস নিয়ে মানুষের আর্থ সামাজিক মান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে একটি স্বচ্ছ সরকার চলছে। এখন চাকরি পেতে গেলে বেকারদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়না। যোগ্যতার নিরিখে সরকারি চাকরি প্রদান করছে সরকার। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি চালু করার ফলে ছাত্রছাত্রীরা নিজেকে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য তৈরী হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে অপরাধের সংখ্যা এখন অনেক কমেছে। বর্তমান সরকার গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘরে সুশাসন অভিযান চালু করেছে। এরফলে রাজ্যের জনগন এখন নিজের এলাকাতেই সরকারি সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।
অনুষ্ঠানে সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্যে আরও ৭টি জাতীয় সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তিনি বলেন, রাজ্যে এখন রেল, সড়ক এবং বায়ু পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংযোগ প্রদান করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জনজাতি এলাকায় শিক্ষার প্রসারে যাতে বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সোনা একলব্য বিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে।  অনুষ্ঠানে বিধায়ক রঞ্জিত দাস বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে একটি এলাকার উন্নয়নের প্রথম ও প্রধান শর্ত। তাই চূড়াইবাড়ি থেকে সাক্রম সড়কের উন্নতিকরণ সহ তেলিয়ামুড়া থেকে করবুক হয়ে সাক্রম পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ডাবল লেনও করা হবে। তাছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলার জেলাশাসক গডেকার ময়ূর রতিলাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন সি শর্মা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গোমতী জেলার এস পি অজিত প্রতাপ সিং, সমাজসেবী অতীন্দ্র রিয়াং, সমাজসেবী অভিষেক দেবরয়, গোমতী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ নিরুমোহন জমাতিয়া, জেলা শিক্ষা আধিকারিক লক্ষণ চন্দ্র দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন করবুক ব্লক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান অসীম ত্রিপুরা।
উল্লেখ্য, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অর্থে মহকুমা হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮কোটি ২৩ লক্ষ ৪২ হাজার ৪৫১ টাকা। নবনির্মিত দ্বিতল মহকুমা হাসপাতালটিতে রয়েছে কিচেন, মর্গ এবং ৪টি স্টাফ কোয়ার্টার। নাবার্ডের অর্থে নবনির্মিত দ্বিতল করবুক পাঞ্জিহাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়টি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৬২ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৯৭ টাকা। নবনির্মিত বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ২২টি ক্লাস রুম ও ১টি অডিটোরিয়াম। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা নবনির্মিত মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সাথে মত বিনিময় করেন। তাছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী নবনির্মিত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *