রবিবার রাজধানী আগরতলার হেরিটেজ পার্কে মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্জ্বলিত করে ত্রিপুরা সরকারের বন দফতর এর উদ্যোগে আয়োজিত প্রজাপতি উৎসব (Butterfly_Festival) এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বন দফতরের আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানান প্রজাপতিদের নিয়ে এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রজাপতি সম্পর্কে মানুষকে বিভিন্ন তথ্য জানাতে এবং সংরক্ষণের লক্ষ্যে এধরনের উৎসবের আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রজাপতিরা আমাদের কাছে প্রকৃতির সেই রূপ যা স্বাধীনতা, সৌন্দর্য, শান্তিকে তুলে ধরে। যে স্থানে তারা বাস করে, তুলে ধরে তার সতেজতা! ওরা ডানা ঝাপটায়, ওরা ভেসে চলে, ওরা ঝলমল করে রঙে, লুকোচুরি খেলে, প্রজাপতিরা প্রকৃতির এমনই আশ্চর্য সুন্দর সৃষ্টি। নান্দনিকতার পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রজাপতির প্রধান কাজ উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করা। এর মাধ্যমেই উদ্ভিদ বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী প্রজাপতির মাধ্যমে সৌরশক্তি উৎপাদন সম্ভব। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রচলিত সোলার প্যানেলের চেয়ে প্রজাপতির পাখনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১০ গুণ বেশি। ফলে প্রজাপতির পাখা সৌরশক্তি ধারণ ও তা থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা প্রজাপতির পাখার রঙের বিন্যাসকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও অন্যান্য সৌরশক্তি প্ল্যান্টে ব্যবহারের জন্য কাজ করছেন এবং সফলতাও অর্জন করেছেন। আবার প্রজাপতি রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব। প্রজাপতি পরিবেশ বিপর্যয়ের যেমন আগাম সংকেত দেয়, তেমনি নিজেও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।
প্রজাপতির আচরণ দেখে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়। ঔষধি গাছ শনাক্তকরণ ও এর গুণাবলি নিরূপণে প্রজাপতির ভূমিকা অনেক। প্রজাপতি শুধু দৃষ্টিনন্দন বা গবেষণার বিষয় নয়, এদের অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে প্রজাপতি আমদানি ও রফতানি করে প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করা সম্ভব। বিশ্বে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রজাপতি কেনাবেচা হয়। প্রজাপতি একক কোনো জীবন নয়, প্রজাপতি এই পরিবেশের সাথে মিশে থাকে। সুতরাং এই পরিবেশ না থাকলে প্রজাপতিও থাকবে না। যেখানেই উন্নয়ন হয়, সেখানেই প্রথম বলিদান হয় বৃক্ষের! এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি বনের উপাদান যেমন বৃক্ষ, ঠিক তেমনি বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে একটি সুস্থ বনের নির্দেশিকা হলো #প্রজাপতি। যে বনে যত বেশি প্রজাপতি থাকবে, সেই বন তত বেশি সুস্থ বল বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মনুষ্য সৃষ্ট সার্বিক পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রজাপতির সংখ্যা ও এর প্রাকৃতিক বাসস্থান আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাচ্ছে। এই কারণে এদের সংরক্ষণ করতে হবে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন- মাটি, জল, বায়ুদূষণ, যথেচ্ছভাবে বনভূমি উজাড় ও কর্তন, বৈরী জলবায়ু ইত্যাদি কারণে প্রজাপতির জীবনচক্র আজ বিপন্ন। তাই সবাইকে প্রজাপতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।
আজকের এই মনোজ্ঞ প্রজাপতি উৎসবে অন্যান্য বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের জিলা সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব, ত্রিপুরা সরকারের বন দফতরের প্রধান সচিব তথা বন দফতরের প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক (পিসিসিএফ) কে এস শেঠী, ত্রিপুরা স্ক্যাটফর্ম প্রকল্পের চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার তথা প্রকল্প অধিকর্তা ড.অবিনাশ কানফাড়ে, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক তথা ক্যাম্পা প্রকল্পের চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আর কে শ্যামল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক তথা চীফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন প্রবীণ এল আগরওয়াল, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা বন আধিকারিক জয়কৃষ্ণাণ ভি কে সহ বন দফতরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকেরা।
