অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে নিরাপদ জীবনযাত্রার কথা ভেবে ন্যাশন্যাল পেনশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে

ন্যাশন্যাল পেনশন সিস্টেম হল একটি ইনভেস্টমেন্ট স্কিম যা বৃদ্ধ বয়সের বা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে নিরাপদ জীবনযাত্রার কথা ভেবে ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী সারা দেশে চালু করেছিলেন। এই প্রকল্প চালুর সময় থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশের ৬ কোটির উপর মানুষ এই পেনশন প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। আজ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে ন্যাশন্যাল পেনশন সিস্টেম নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি এন্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারপার্সন সুপ্রতীম বন্দোপাধ্যায় একথা জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে চেয়ারপার্সন সুপ্রতীম বন্দোপাধ্যায় জানান, প্রথম ধাপে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিগণ এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজা সরকারও তাদের নিজ রাজ্যের সরকারি কর্মচারিদের এই প্রকল্পে যুক্ত হতে উৎসাহিত করেন। ত্রিপুরায় ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে এই স্কিম চালু করা হয়। তিনি জানান, বর্তমানে এই ৬ কোটির উপরে ব্যক্তিদের এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার ফলে সরকার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মার্কেটে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পেরেছে। এই ন্যাশন্যাল পেনশন সিস্টেম বিষয়ে তিনি বলেন, এই সিস্টেমে কোন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি তার বেসিক পে-এর ১০ শতাশ প্রতি মাসে এই স্কিমে জমা করলে সরকার সেখানে ১৪ শতাংশ কন্ট্রিবিউশন করছে। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্য কর্মচারিদের ক্ষেত্রে কোনো কর্মচারি তার বেসিক পে এর ১০ শতাংশ এই স্কিমে প্রতিমাসে জমা রাখলে সরকারও ১০ শতাংশ এই স্কিমে জমা করবে। ১৮ বছর বয়স থেকেই এই স্কিমে জয়েন করা যাবে এবং ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এই স্কিম চালু রাখতে পারবেন। প্রয়োজনে কেউ ইচ্ছে করলে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্তও এই স্কিম চালু রাখতে পারবেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই স্কিম অত্যন্ত জরুরী একটি পরিষেবা। চাকুরি শেষে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি একটি বড় অংকের আর্থিক সুবিধা এই স্কিম থেকে পেতে পারেন। উদাহরণ হিসাবে তিনি জানান, কোন ব্যক্তি যদি অবসরে যাওয়ার পর এই স্কিমে যদি ৪০ লক্ষ টাকা জমা হয় তার থেকে ২৪ লক্ষ টাকা এককালীন তুলে নিতে পারবেন। বাকি ১৬ লক্ষ টাকা এই স্কিমে ইনভেস্ট করে তা থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রতিমাসে সেই ব্যক্তি পেনশন হিসাবে পেতে পারেন। যদি অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয় তার স্ত্রী বা নমিনী সেই পেনশন পাবেন। যদি স্ত্রী বা নির্মিনীর মৃত্যু হয়। তার পরিবার জমাকৃত অর্থের মূল অংশটি তুলে নিতে পারবেন। এতে কোন আয় কর দিতে হবে না।
অর্থাৎ এই স্কিম হচ্ছে সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত স্কিম। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই পেনশন প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে চেয়ারপার্সন সুপ্রতীম বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিএফআরডি অথরিটির চিফ জেনারেল ম্যানেজার কে মোহন গান্ধী এবং রাজ্য অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব আকিঞ্চন সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *