রাজ্যে জাতি জনজাতি ঐক্য সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলাও যথেষ্ট উন্নত । কিন্তু একে বিনষ্ট করতে বিরোধীদের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । তাই বিরোধীদের প্ররোচনা ও উস্কানির বিরুদ্ধে ভারতীয় জনতা পার্টির যুবমোর্চা কর্মীদের আরো বেশি সংঘটিত ও সতর্ক থাকতে হবে। বুধবার অম্পি বাজার গ্যালারী মাঠে ভারতীয় জনতা পার্টির ৪১ আম্পি মন্ডল আয়োজিত জন সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষ শান্তি সুস্থিতিতে থাকতে চায়, কোন প্রকার অশান্তি চায় না। শান্তির মধ্য দিয়েই উন্নয়ন সম্ভব ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই রাজ্যে কংগ্রেস দলের উশৃংখলতা মানুষ দেখেছে । এই দলের উশৃঙ্খলাতা দেখে মানুষ বিরক্ত হয়ে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টিকে বিকল্প ধরে নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। কিন্তু তারা এ রাজ্যে খুন সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। কমিউনিস্ট দলের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন ১৪ বছর ১৫ বছর ধরে রাজ্যের সাধারণ বেকারদের মিছিলে হাঁটিয়ে তারপর চাকরি দিয়েছে। এতে এতটাই অনিয়ম হয়েছে যে কোর্টের রায়ে তাঁদের চাকরি পর্যন্ত চলে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসকেও এক হাত নেন। তিনি বলেন, আজকাল তৃণমূল কংগ্রেসকে আমরা দেখছি, পরিযায়ী পাখির মত তারা ৬ শতাংশ ভোট পেতে ত্রিপুরায় আসে। পশ্চিমবাংলায় এই দল মিনি পাকিস্তান বানিয়ে ফেলেছে। এই দলকে ত্রিপুরার মানুষ গ্রহণ করবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করা। এ প্রসঙ্গে তিনি টেট উত্তীর্ণদের চাকুরী প্রদান, জেআরবিটি মেধা তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতার উদাহরণ তুলে ধরেন।
বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মকান্ডের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য শিক্ষা সহ সকল ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন আনার কাজ করে চলেছে । এই প্রসঙ্গে তিনি অম্পি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন রাজ্যের প্রত্যেকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে হেলথ এন্ড ওয়েলনেস সেন্টারে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। অম্পি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের নবনির্মিত ভবন এবং স্টাফ কোয়ার্টারের দ্বারোদ্ঘাটনের ফলে এলাকার মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিশা নির্দেশনায় এই রাজ্যে হীরা মডেলে বিকাশ চলছে । এই প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় সড়ক, রেলপথ, বিমানপথ, ইন্টারনেটওয়ে সকল ক্ষেত্রে কি পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষ যাতে বর্তমান বিজেপি সরকারকে নিজের সরকার হিসেবে ভাবতে পারে, তার জন্যই আমার সরকার পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এতে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের মানুষ যখন যেখানে যা সমস্যা দেখা দেবে তাই এই পোর্টালে আপলোড করতে পারবে এবং তা নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থাও প্রশাসন গ্রহণ করবে। সরকারের সকল বিকাশমুখী প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রত্যেক পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়, তার জন্যই সময় বৃদ্ধি করে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘প্রতি ঘরে সুশাসন’ অভিযান চলছে। রাজ্যের বর্তমান সরকারের কাজে সকল অংশের মানুষ দারুনভাবে খুশি। এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ এদিনের সমাবেশে বিশাল অংশের উপস্থিতি বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ২২ পরিবারের ৫৪ জন ভোটার তিপ্রামথা, সিপিআইএম এবং কংগ্রেস দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস, সিন্ধু চন্দ্র জমাতিয়া, দলের প্রদেশ সহ-সভাপতি পাতাল কন্যা জমাতিয়া, গোমতী জেলা প্রভারি রতন ঘোষ, জেলা সভাপতি অভিষেক দেবরায় সহ অন্যান্যরা।
