আমার জন্মে আগরতলায় কোন সমাবেশে এত বিশাল সংখ্যায় লোক জমায়েত হয়েছে দেখিনি, যা গতকাল দেখলাম । অথচ বিরোধীরা এই জমায়েতকে ফ্লপ বলছে, এটাই আশ্চর্যের বিষয়। আজ বিশালগড়ে ভারতীয় জনতা পার্টির সিপাহীজলা জেলার নবনির্মত কার্য্যালয়ের শুভ-দ্বারোদঘাটন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের পর কংগ্রেস এবং সিপিএম দলের বিবৃতির তিরস্কার করে বলেন, “তাদের চোখের পর্দা কি এখনো সরছেনা, ত্রিপুরার মানুষ কি তাদের কথা বিশ্বাস করবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয় কংগ্রেস এবং সিপিএম দল কতটা দেউলিয়া হয়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে রাজ্যে একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম ছিল । যার ছায়া এই বিশালগড়ও বর্তমান ছিল । এই প্রসঙ্গে তিনি নিজের বিশালগড় হাসপাতালে কর্মজীবনে কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ঐ সময় এখানে কাজ সেরে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারব কিনা এই নিয়ে সংশয় ছিল । এই এলাকায় বিধায়ক পর্যন্ত খুন হয়েছেন।
এদিন আবারো কংগ্রেস আর সিপিএম দলকে সন্ত্রাস ও উশৃঙ্খলতার দল বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন তাঁদের মধ্যে একটা অংশ যখন দেখছে তাঁদের পেছনে আর কোন লোক নেই, তখন সুযোগ বুঝে বিজেপি দলে ঢুকে পড়েছিল । এখানে এসেও চরিত্র বদলায়নি, ষড়যন্ত্র করতে শুরু করে। তাঁরা আবার পাত্তা না পেয়ে সরে গেছে বলেও তিরস্কার করেন তিনি। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী কারোর নাম না উল্লেখ করে বলেন, “কর্মজীবনে আমি লাইভ সার্জারি দেখেছি, কিন্তু লাইভ মুন্ডন দেখিনি। কালীঘাটে লাইভ মুন্ডন দেখার সুযোগ হলো।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সময় চারদিকে শুধু উন্নয়ন। এই সময়ে একটা শ্রেণি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজ্যের শান্ত পরিবেশকে উশৃংখল করার চেষ্টা করতে পারে । জাতি-জনজাতির সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে যুব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান রাখেন তিনি। গতকালকের বিশাল জনসভার পরেও এদিনের অনুষ্ঠানে এলাকার কার্যকর্তাদের বিশাল উপস্থিতির জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ বিজেপির সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, গতকালকের সমাবেশ প্রমাণ করে দিয়েছে, ২০২৩ এ ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আবারো রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানের সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বিরোধীদলের সাংবাদিক সম্মেলনকে তীব্র তিরস্কার করে তিনি বলেন, তাঁদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ ধরা পড়ছে , তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ৬০/৬০ আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, দলের উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগঠন মহামন্ত্রী ফনীন্দ্রনাথ শর্মা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, সিপাহীজলা উত্তর এবং দক্ষিণের পদাধিকারী সহ অন্যান্যরা।
পরে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা চলে যান গোমতি জেলার কাকড়াবন বাজারে । সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির কাকড়াবন-শালগড়া মন্ডল অফিস (অটল ভবন) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সকল কার্যকর্তাদের দলের কার্যালয়কে মন্দির হিসাবে দেখে সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান রাখেন। এই অনুষ্ঠানেও তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিস্তৃত তথ্য তুলে ধরেন এবং একই সাথে বিরোধীদের নেতিবাচক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দলের প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধায়ক বিপ্লব কুমার ঘোষ, দলের সাধারণ সম্পাদক টিঙ্কু রায়, সম্পাদক রতন ঘোষ, গোমতি জেলা সভাপতি অভিষেকে দেবরায়, মন্ডল সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার সহ অন্যান্যরা।
