সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও কোন কাজই ছোট নয়। তাই সমাজকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে হলে প্রত্যেককেই তার পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠা সহকারে পালন করতে হবে। আজ উমাকান্ত একাডেমির পুরাতন ভবনে ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আগরতলা পুরনিগমে সাফাই কাজে নিযুক্ত কর্মীদের মধ্যে শীতবস বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান। সমাজকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার যে কাজ সাফাই কর্মীরা করছেন তা মূল্যায়ণ করে তাদের শীতবস্ত্র প্রদান অনুষ্ঠান সত্যিই প্রশংসনীয়। সাফাই কর্মীদের আন্তরিক দায়িত্ব পালনের ফলেই আগরতলা শহর আজ তিলোত্তমা আগরতলা হয়ে উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন বর্তমান রাজ্য সরকার সমাজের প্রত্যেক মানুষকেই তার উপযুক্ত সম্মান দিচ্ছে। সরকার কাউকেই দূরে ঠেলে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করেনা। আগামীদিনেও সবাইকে একসূত্রে গেঁথে সরকার কাজ করবে। তবেই এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়া সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাফাই কর্মীরা যাতে স্বাচ্ছন্দে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য আগরতলা পুরনিগমকে সাফাই কর্মীদের লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে হবে। স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন সুবিধাও তাদেরকে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের টিসিএস অফিসারদের দায়িত্ব অপরিসীম। সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজটি টিসিএস অফিসাররা করে যাচ্ছেন। সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা সমাজের অন্তিম ব্যক্তির নিকট পৌছানোর ক্ষেত্রেও টিসিএস অফিসাররা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, যারা আগরতলা শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করছেন তাদের সম্মান প্রদান সত্যিই মহান উদ্যোগ। আগরতলা সুন্দর ও নির্মল রাখা সরকারের যে অঙ্গীকার রয়েছে তা বাস্তবায়ণে সাফাই কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ রাখেন ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অসীম সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিলীপ কুমার চাকমা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর আগরতলা পুরনিগমের সাফাই কর্মীদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা ও অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথিগণ।
