স্বাস্থ্যই সম্পদ। স্বাস্থা ঠিক না হলে সবকিছুই বৃথা। রাজ্যের বর্তমান সরকার উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ সহ প্রতিটি ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের বর্তমান সরকার আলোপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি সমান অগ্রাধিকার দিয়ে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতিতেও উদ্যোগ নিয়েছে। আজ আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনিতে নবনির্মিত ৫৩ শয্যা বিশিষ্ট আয়ুর্বেদ ভবনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর
(ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আয়ুর্বেদ হলো ভারতের কৃষ্টি সংস্কৃতির অঙ্গ। কোনও এক সময় দেশের বাইরে থেকে মানুষ আসতো ভারতের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ নেওয়ার জন্য। ভারতবর্ষের মার্গ অনুসরণ করতো সারা পৃথিবী। কালক্রমে এই কৃষ্টি সংস্কৃতি মানুষ হারিয়ে ফেলেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার আসার পর দেশের জনগণ পুনরায় সেই কৃষ্টি সংস্কৃতি খুঁজে পাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে আয়ুর্বেদ নিয়ে মানুষ গবেষণা করছে। আয়ুর্বেদের চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষ আজকাল গ্রহণ করছে। ভারতের আয়ুর্বেদ এখন সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। তিনি বলেন, এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক অত্যাধুনিকতা সংযোজিত হয়েছে। এগুলিকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে কিভাবে বিশেষ পরিষেবা প্রদান করা যায় সেই বিষয়ে সজাগ হতে হবে। চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষের সাথে বিনয়ী হওয়ার জন্য চিকিৎসা কর্মীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই গোমতী জেলায় ইন্টিগ্রেটেড আয়ুর্বেদ হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। রাজ্যের প্রাইমারি হেলথ সেন্টারগুলিকে ওয়েলনেস সেন্টারে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের একমাত্র ডেন্টাল কলেজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। রাজ্য সরকার রাজ্যের ডাক্তারদের পাশাপাশি চিকিৎসা কর্মীদের কিভাবে উন্নতিকরণ করা যায় সেই বিষয়ে উদ্যোগী রয়েছে। স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছে। কোনও জায়গায় যাতে কোনও প্রকার খামতি না থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, এই আয়ুর্বেদ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালে। সময়ের সাথে এর উত্তরণ হয়েছে। রাজ্য সরকার আয়ুর্বেদের উন্নতিকল্পে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী এই আয়ুর্বেদ হাসপাতালের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। এই হাসপাতাল যাতে মানুষের সঠিক কল্যাণে আসে সেই আশা ব্যক্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী আজকের এই নবনির্মিত আয়ুর্বেদ ভবনটি পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজ্য আয়ুর্বেদ হাসপাতালের প্রধান ডা. সুনন্দা ভট্ট ।চার্য। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব ড. দেবাশিস বসু স্বাস্থ্য অধিকর্তা শুভাশিস দেববর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা, এনএইচএম-এর মিশন অধিকর্তা ডা. শুভাশিস দাস প্রমুখ।
