🚨🧧ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তাহার প্রকাশ

৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ দুপুর ১টা নাগাদ, সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার প্রকাশ করা হলো ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের “উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ১০ অঙ্গীকার”-এর ঘোষণা করা হয়।
‌রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে অভিবাদন জানিয়ে, সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করেন। তারপর সকলের হাতে ইস্তাহার তুলে দিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রধান তিনটি সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি। পানীয় জলের সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, এই সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করলে, আগরতলা পুলিশ কমিশনারেট প্রতিষ্ঠিত করা হবে। ১০,০০০ যুবককে মাসিক ১,০০০ টাকা বেকারভাতা দেওয়া হবে। এছাড়া যে ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, তাঁদের সমস্যার আইনি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁদেরকেও এই আওতায় আনা হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি শূন্যপদ পূরণ করে, প্রথম বছরে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান ও আগামী ৫ বছরে ২ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করার অঙ্গীকার করা হয়েছে নির্বাচনী ইস্তাহারে।
‌ ব্রাত্য বসু জানান, বাংলায় যে উন্নয়নের মডেল তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছে, তাঁর সঙ্গে মানানসই করে, ত্রিপুরার মত করে, যাতে ত্রিপুরা স্বাধীন ত্রিপুরা হয়ে ওঠে তার লক্ষ্যমাত্রা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এই নির্বাচনী ইস্তাহারে। তিনি বলেন, বিজেপি কেবলমাত্র উচ্চবিত্তের সরকার। সাধারণ মানুষের সমস্যার কোনো সমাধান নেই, কৃষকদের দুরবস্থা, কোনো চাকরি নেই, আমজনতার আশা তলানিতে ঠেকেছে। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ, মা মাটি মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান হতে পারে। ব্রাত্য বসু আরো জানান, সাংস্কৃতিক সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা ও আঞ্চলিক সংস্কৃতির প্রচারের মাধ্যমে প্রত্যেক ভাষা ও সমুদায়ের শিল্পীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করা হবে।
‌পীযূষ কান্তি বিশ্বাস জানান ২৫ বছরে সিপিআইএম-এর অপশাসন থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি চেয়েছিলো, কংগ্রেসের উপর তাদের ভরসা ছিলো না, এমন সময় প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা করে মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলো কিন্তু জয়লাভের পর একটা প্রতিশ্রুতিও পালন করা হয়নি। তার বদলে শুরু হয়েছে, বাইকবাহিনীর অত্যাচার ও লুঠতরাজ। এই অত্যাচার, অনাচার, লুঠতরাজ ও নারী নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করতে পারে সাধারণ মানুষ।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মা ত্রিপুরেশ্বরীর দর্শন করে, সকলের মঙ্গলকামনায় পুজো দিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৭ ফেব্রুয়ারি আগরতলায় পদযাত্রা করবেন। রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন থেকে শুরু করে, রাজবাড়ির সামনে দিয়ে, জ্যাকসন গেট (দুর্গা বাড়ি ও তুলসিবাটি স্কুল) থেকে কামান চৌমুহনি হয়ে, পোস্ট চৌমুহনি, প্যারাডাইস চৌমুহনি, বটতলা, ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনি, খের চৌমুহনি, বিদুরকাতা চৌমুহনি ও আরএমএস চৌমুহনি হয়ে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ফিরে আসবে এই পদযাত্রা।
ডক্টর শশী পাঁজা বলেন, পশিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সুশাসিত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন তার দর্শন হলো মা মাটি মানুষ। এই মা মাটি মানুষের সরকার সাধারণ মানুষের জন্য, তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্যই কাজ করছে। বিশ্বজোড়া এই মুদ্রাস্ফীতির বাজারেও পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার অনেক কম। কন্যাশ্রী প্রকল্প বিশ্বে সমাদৃত এবং পুরষ্কৃত। সর্ব ধর্ম, জাতি ও ভাষার সমন্বয়ে সুস্থ, স্বচ্ছ সমাজ গড়ে তোলা তৃণমূল কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য।
রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব জানান, বর্ষীয়ান নাগরিকদের পেনশন সরকার থেকে অনুমোদন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা নাগরিকদের কাছে পৌঁছায় না। মাসিক ২,০০০ টাকা তাদের দুয়ারে পৌঁছে দেবে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এছাড়া উত্তর ত্রিপুরার দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ার জন্য, সেখানে আলাদা কমিশনারেট বা সেক্রেটারিয়েট প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি  আরো বলেন, মৌলিক ভোগ্যপণ্য হিসেবে গ্যাসের  মূল্যবৃদ্ধি চরমে। এমতাবস্থায়, ৫ লক্ষ পরিবারের মধ্যে ২,৭২,৩২৩ টি পরিবার প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসে ৫ লক্ষ পরিবারকে ৩ টি করে গ্যাস সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সুস্মিতা দেব।
এই বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটি দল, যার উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল ও আগ্রাসন নয়, মা মাটি মানুষের এই সরকার মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে এই নির্বাচনে লড়াই করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *